জলাবদ্ধতা থেকে আলোকিত নগর

এলজিসিআরআরপিতে বদলে যাচ্ছে ৩৩৯ নগর জনপদ

আরিফুল ইসলাম সোহেল প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
এলজিসিআরআরপিতে বদলে যাচ্ছে ৩৩৯ নগর জনপদ
বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার মানশা চেন এবং এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।

বৃষ্টি নামলেই হাঁটুপানি, ভাঙা সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, অস্বাস্থ্যকর বাজার আর রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর দুর্ভোগ-দেশের বহু পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মানুষের কাছে এগুলো ছিল দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। কোভিড-১৯ মহামারির পর কর্মসংস্থান ও আয় কমে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়; নাগরিক সেবার ঘাটতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর। সেই কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে মানুষের জীবন ও নগরসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের গল্প লিখছে লোকাল গভার্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি), এলজিইডি।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এলজিসিআরআরপি বর্তমানে দেশের ৩২৮টি পৌরসভা ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনসহ মোট ৩৩৯টি নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু রাস্তা, ড্রেন বা স্থাপনা নির্মাণ নয়; নাগরিক জীবনকে নিরাপদ, সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল করে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

কর্মসংস্থানে ফিরেছে আশার আলো

কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাতে জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়া পরিবারগুলোর জন্য এলজিসিআরআরপি নতুন আশার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৮.৭০ লাখ জনদিনের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে নারীদের কর্মসংস্থান প্রায় ৯.৩২ লাখ জনদিন। এই কর্মসংস্থান বহু পরিবারকে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ, সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং জীবিকার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। ফলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নগরজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ২,৫৮১.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাপক নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়েছে। নির্মিত হয়েছে প্রায় ১,৬৯১ কিলোমিটার আধুনিক সড়ক, যার মধ্যে ১৮৭ কিলোমিটার জলবায়ু সহনশীল ইউনিব্লক সড়ক। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৪২ কিলোমিটার টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ৩৪ কিলোমিটার ফুটপাত, ৫৯৩ মিটার কালভার্ট, ৫৩টি পাবলিক টয়লেট, ৫৫টি মার্কেট, ২৯টি ঘাটলা, ৬৫টি ডাস্টবিন এবং ৪,৭৯৬টি সড়ক বাতি।

নাগরিক সুবিধা বাড়াতে আরও নির্মিত হয়েছে ১৭টি পার্ক, ৬০টি কবরস্থান, ১২টি শ্মশান, ১৩টি কমিউনিটি বিল্ডিং, ১৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ১১টি পার্কিং এরিয়া, ৮,৭৫০ মিটার পানি সরবরাহ সংযোগ লাইন, ৬৫০ বর্গমিটার লেক সাইড সৌন্দর্যবর্ধন, ২টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ১১২টি রোড সাইড প্রোটেকটিভ ওয়ার্ক। নগর এলাকায় সবুজায়নের জন্য লাগানো হয়েছে ১,৫০০টি গাছ। একটি সাইক্লোন সেন্টার কাম বিদ্যালয়ের কাজও চলমান রয়েছে।

এসব উন্নয়নের ফলে বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা কমেছে, চলাচল সহজ হয়েছে, রাতের নিরাপত্তা বেড়েছে, বাজার ও জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে ৮৩৫টি প্যাকেজের অধীনে ১,৮৪৯টি উপ-প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনের ভিত্তি

জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে রয়েছে বাংলাদেশের নগরগুলো। এই বাস্তবতায় এলজিসিআরআরপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো লোকাল প্রিপেয়ার্ডনেস প্ল্যান (এলপিপি)। এর মাধ্যমে দেশের ৩৩৯টি নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথমবারের মতো সমন্বিত, ডিজিটাল ও জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে।

এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কার্যকর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। কোন এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি, কোথায় দুর্যোগঝুঁকি বেশি এবং কোথায় জরুরি সেবা বা অবকাঠামো প্রয়োজন—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে এলপিপি শুধু একটি পরিকল্পনা দলিল নয়; এটি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নের বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে EDGE সার্টিফায়েড প্রথম গ্রিন বিল্ডিং

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জিয়া পার্কের কাছে ছয়তলা ভিত্তির ওপর দুইতলা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি) গ্রিন বিল্ডিং উপ-প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এটিই প্রথম গ্রিন বিল্ডিং। পরিবেশবান্ধব নকশা ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা EDGE-এর সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার বিষয়টি নকশা ও নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভবনটি প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের উপযোগী হবে এবং এতে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল, হিট রিফ্লেকশন পেইন্ট, পানি সাশ্রয়ী টয়লেট ফিক্সচারসহ গ্রিন বিল্ডিং-সংশ্লিষ্ট উপকরণ ও সুবিধা থাকবে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়ন চলছে; প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্মার্ট এলইডি সড়কবাতিতে নিরাপত্তা ও সাশ্রয়

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনসহ খাগড়াছড়ি, নবীগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, শ্রীবরদী, হালুয়াঘাট ও দেবিদ্বার পৌরসভার নির্দিষ্ট এলাকায় আইওটি-ভিত্তিক ইন্টেলিজেন্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপন স্থানীয় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক সেন্সরযুক্ত এসব সড়কবাতি রাতের অন্ধকার দূর করার পাশাপাশি চালকদের দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমছে এবং নাগরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হচ্ছে-যা এসডিজি ৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ) অর্জনে সরাসরি অবদান রাখছে।

জননিরাপত্তা বাড়ায় বিশেষ করে নারীদের রাতের শিফটে কর্মস্থলে যাতায়াত ও জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ চলাচল সহজ হয়েছে। এটি এসডিজি ৫ (জেন্ডার সমতা) এবং এসডিজি ১১ (টেকসই নগর ও জনপদ) অর্জনে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এলাকা নিরাপদ ও আলোকিত হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার ও নৈশকালীন দোকানের কর্মঘণ্টা বেড়েছে; সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়ছে আয় এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এ পরিবর্তন এসডিজি ১ (দারিদ্র্য বিলোপ) ও এসডিজি ৮ (কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) অর্জনেও সহায়ক।

পরিবেশের অবস্থা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলোর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ এবং নষ্ট সড়কবাতির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর প্রযুক্তি বিদ্যুতের অপচয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমিয়েছে। এটি এসডিজি ৭ (সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি) ও এসডিজি ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) অর্জনে সহায়ক। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমায় কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে, যা এসডিজি ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম) বাস্তবায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে, উদ্যোগটি মোট আটটি এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট নগরবাসীকে নিরাপদ, টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা

এলজিসিআরআরপির আরেকটি বড় অর্জন হলো প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা। প্রকল্পভুক্ত নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টিগ্রেটেড ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট (এফএম) এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, উপ-প্রকল্পের অবস্থা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন কার্যক্রম রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

নাগরিক সেবা সহজ করতে ওয়েবভিত্তিক পৌরসেবা সফটওয়্যারে ই-পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে। এর ফলে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, পানি বিলসহ বিভিন্ন পৌরসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নাগরিকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই ডিজিটাল রূপান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মানুষের অংশগ্রহণে মানুষের উন্নয়ন

এলজিসিআরআরপির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো অংশগ্রহণমূলক ও বটম-আপ পরিকল্পনা পদ্ধতি। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, নারী, যুব, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের বিনিয়োগ কাগুজে পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; স্থানীয় মানুষের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে।

যে এলাকায় আগে ভাঙাচোরা ও কর্দমাক্ত রাস্তা ছিল, সেখানে এখন নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরি হয়েছে। যে বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাব ছিল, সেখানে উন্নত মার্কেট ও পাবলিক টয়লেট নির্মিত হয়েছে। যে মহল্লায় সন্ধ্যার পর চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেখানে সড়কবাতি মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি বাড়িয়েছে। এমন অসংখ্য ছোট পরিবর্তন মিলেই বদলে দিচ্ছে নগরজীবনের বড় চিত্র।

চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি

প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং স্থানীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের ঘন ঘন পরিবর্তনসহ নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জ ছিল। তবুও ধারাবাহিক তদারকি, মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি সফলভাবে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৭.৮৪ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৯১.০০ শতাংশ। সন্তোষজনক বাস্তবায়ন অগ্রগতির কারণে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি ধারাবাহিকভাবে “Satisfactory” রেটিং অর্জন করেছে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই স্বীকৃতি সকল পর্যায়ের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

প্রকল্প পরিচালক জনাব নাজমুস সাদাত মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, “জলবায়ু সহনশীল, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। দেশের নাগরিকদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

নগর উন্নয়নে নতুন আস্থা

এলজিইডির আওতায় এলজিসিআরআরপি আজ শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি কোভিড-১৯ পরবর্তী পুনরুদ্ধার, নাগরিক সেবার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সমন্বিত উদ্যোগ। প্রকল্পের প্রতিটি রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি, মার্কেট, পাবলিক টয়লেট, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা সবুজায়ন কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে মানুষের প্রয়োজন, অংশগ্রহণ এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য।

দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে এলজিসিআরআরপি দেখিয়েছে-সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি থাকলে নগর উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। জলাবদ্ধতা, অন্ধকার, দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে দেশের নগর জনপদ এগিয়ে যাচ্ছে আরও নিরাপদ, আলোকিত, সবুজ ও বাসযোগ্য আগামীর পথে।

এম জি