সংসদে সৈয়দ তাহের

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রভাব ফেরানোর চেষ্টা চলছে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০২:১৬ এএম
ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রভাব ফেরানোর চেষ্টা চলছে

ইসলামী ব্যাংকে আবারও এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ ধারায় উত্থাপিত এক নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। তাহেরের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওই সময়ে গ্রাহকেরা নতুন করে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা আমানত জমা রাখেন। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, তাদের নেতৃত্বে ব্যাংকটি স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছিল। হঠাৎ চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করার কারণ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।

তিনি আগের ব্যবস্থাপনা কাঠামো পুনর্বহাল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।

ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তার অভিযোগ, বর্তমানে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে অন্যান্য শেয়ারধারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গে তাহের বলেন, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শক্তি সবসময় সততা ও দক্ষতা ছিল, তাই সেই মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি।

তাহের সতর্ক করে বলেন, ব্যাংক পরিচালনায় এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটলে আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে অনাস্থা তৈরি হতে পারে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতে মালিকানা পরিবর্তনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোও পর্যালোচনা করার দাবি জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় উপনেতা আরও বলেন, আমানতকারীদের উদ্বেগ দূর করা না গেলে পরিস্থিতি আন্দোলনের দিকে গড়াতে পারে।

এম জি