হামিদুর রহমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো

সীমান্ত হত্যা এবং একের পর এক পুশইনের ঘটনা ও এসব ইস্যুতে সরকারের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যটি হুবহু ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে ভিনদেশের এজেন্ডা ও স্বার্থ চরিতার্থ করছে।

বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত সমস্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কড়া কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশের মানুষকে সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার বিধান নেই, এটি মানবাধিকারের এক সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অর্ধশতাধিক পুশইনের ঘটনা ঘটেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশিবার অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং দেশের দেশপ্রেমিক জনগণের যৌথ ও সাহসী ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বড় বিপর্যয় রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সরকারকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ভিনদেশের স্বার্থ চরিতার্থ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো মূল্যে পুশইনের মতো আগ্রাসন প্রতিহত করা হবে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই জামায়াত নেতা জানান, গত তিন মাসে সারা দেশে মোট ফৌজদারি মামলার সংখ্যা একলাফে ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। বিএনপি এরই মধ্যে নিজেদের দলের ১৮ জন নেতা-কর্মীকে খুন করেছে, এমনকি জামায়াতেরও ৪ জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আর এসব নৃশংসতায় সরকারের নীরবতাই প্রমাণ করে যে তারা নিজেরাই এসব অপরাধের মদতদাতা।

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে হামিদুর রহমান বলেন, এই সরকারের ১০০ দিনের দেশ পরিচালনায় জনগণের অধিকার, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকার এখন অতীতের ফ্যাসিবাদের কায়দাতেই দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকার যে আসলে রাষ্ট্রের কোনো গুণগত সংস্কার চায় না, তা ধাপে ধাপে জনগণের সামনে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতির সংস্কারের যে বড় প্রত্যাশা ছিল, তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেউ কেউ জনগণের সেই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের পবিত্র শপথ লঙ্ঘন করেছে, অথচ বিরোধী দল হিসেবে আমরা দুটি শপথই অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করেছিলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্ত সংক্রান্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার হয়ে আটকা পড়া মানুষেরা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ সেখানে সরকারের মানবিক ভূমিকা একেবারেই অপ্রতুল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি ড. জাহেদের বক্তব্যও জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। পুশইন মোকাবিলায় সরকারকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা।

দেশের বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বারবার মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তে সাধারণ জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই সার্বিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নতুন রাজপথের কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।

ঘোষিত নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে একযোগে প্রতিবাদ সভা করবে ১১ দলীয় জোট। এর পর ১৫ জুন চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ এবং একই দিনে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসমাবেশ করবে এই জোট। সংসদে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথেও তাদের এই তৃতীয় ধাপের আন্দোলন চলমান থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার জানানো হয়।

এএন