আশুরার দিনে শুক্রবারই কি কিয়ামত সংঘটিত হবে?

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আশুরার দিনে শুক্রবারই কি কিয়ামত সংঘটিত হবে?

কিয়ামত ইসলামের মৌলিক আকিদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি এমন এক অবশ্যম্ভাবী সত্য, যার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের অবসান ঘটবে এবং শুরু হবে আখিরাতের অনন্ত জীবন। সেদিন মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস করে পুনরায় মানুষকে জীবিত করবেন এবং প্রত্যেকের কর্মের হিসাব গ্রহণ করবেন। নেককাররা জান্নাত লাভ করবেন, আর পাপীরা ভোগ করবেন তাদের কর্মফল।

পবিত্র কোরআনে কিয়ামতের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মহাবিপর্যয়! মহাবিপর্যয় কী? তুমি কি জানো মহাবিপর্যয় কী? সেদিন মানুষ হবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পতঙ্গের মতো এবং পাহাড়গুলো হবে ধুনিত রঙিন পশমের মতো।’ (সুরা কারিয়া : ১-৫)

কিয়ামতের সময় একমাত্র আল্লাহই জানেন

কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে, তার নির্দিষ্ট সময় একমাত্র আল্লাহ তাআলারই জানা। কোনো নবী, ফেরেশতা কিংবা মানুষের পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, এর জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে।’ (সুরা আরাফ : ১৮৭)

আরেক আয়াতে এসেছে, ‘কিয়ামত অবশ্যই আসবে। আমি তা গোপন রেখেছি, যাতে প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া যায়।’ (সুরা ত্ব-হা : ১৫)

কিয়ামত কি জুমার দিন হবে?

হাদিসে এসেছে, কিয়ামত জুমার দিন সংঘটিত হবে। তবে কোন জুমা, কোন মাস বা কোন বছরে তা ঘটবে- এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

আবু লুবাবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

আশুরার দিন শুক্রবার হলে কি কিয়ামত হবে?

সমাজে অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে, ১০ মহররম (আশুরা) যদি শুক্রবারে পড়ে, তাহলে সেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে। তবে এ দাবির পক্ষে কোরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই।

ইতিহাসে বহুবার আশুরা শুক্রবারে পড়েছে, কিন্তু কিয়ামত সংঘটিত হয়নি। বরং হাদিস বিশারদদের মতে, আশুরার দিনে কিয়ামত হওয়ার যে বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে, তা জাল (মাওজু)। আল্লামা ইবনুল জাওযি, ইমাম সুয়ুতি ও ইবনুল আররাক (রহ.) এ বর্ণনাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। (কিতাবুল মাওজুআত ২/২০২; আল-লাআলিল মাসনুআ ২/১০৯; তানযিহুশ শরিআতিল মারফুআ ২/১৪৯)

গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রস্তুতি

কিয়ামত কবে হবে, সেটি জানার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কিয়ামতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আল্লাহর প্রতি ঈমান, রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ, নেক আমল, তাওবা এবং আত্মশুদ্ধিই একজন মুমিনের মূল দায়িত্ব।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কিয়ামত কবে হবে? উত্তরে তিনি জানতে চান, ‘তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’ লোকটি বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি। তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি তার সঙ্গেই থাকবে, যাকে তুমি ভালোবাস।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭২)

সুতরাং আশুরার দিন শুক্রবার পড়লেই কিয়ামত হবে- এমন বিশ্বাস ইসলামী শরিয়তের আলোকে সঠিক নয়। কিয়ামতের সময় একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো সময় নিয়ে জল্পনা না করে নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং আখিরাতের সফলতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা।

এএন