আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, মুসলমানদের উচিত সময়ের স্রোতে নিজেদের হারিয়ে না ফেলে বরং ইসলামের আদর্শ ধারণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা। তিনি মনে করেন, আত্মপরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যবোধ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারই এবারের আশুরার মূল শিক্ষা হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। এ কারণেই আশুরার রোজার ক্ষেত্রেও ইহুদিদের অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে তিনি সাহাবিদের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছিলেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক মুসলমান শুধু দৈনন্দিন জীবনযাপনেই নয়, সংস্কৃতি, চিন্তাধারা, মূল্যবোধ এমনকি নানা অন্যায় কাজেও অন্ধভাবে অন্যদের অনুসরণ করছেন। অনেকেই আবার এসব অনুকরণকে গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করেন, যেখানে বলা হয়েছে, একসময় মুসলমানরা পূর্ববর্তী জাতিদের পদে পদে অনুসরণ করবে। সাহাবিরা জানতে চাইলে, তারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কথা বোঝানো হয়েছে কি না, উত্তরে নবী (সা.) বলেন, ‘তবে আর কারা?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৫৬)। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এটি কোনো প্রশংসাসূচক বক্তব্য নয়; বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি সতর্কবার্তা।
পোস্টের শেষাংশে তিনি মুসলমানদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যুগের সঙ্গে আপস করে নিজেদের বদলে ফেলার পরিবর্তে ইসলামের আদর্শ ধারণ করে সমাজে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যেভাবে মক্কার জাহেলি সমাজের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই আদর্শ অনুসরণ করেই উদাসীনতা দূর করে আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, এই চেতনা ও অঙ্গীকারই হোক এবারের আশুরার প্রকৃত বার্তা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন