ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছে কোন দেশ?

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দিয়েছে কোন দেশ?

ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা শুধুই দুটি দেশের নাম নয়, বরং আবেগের প্রতীক। বিশ্বকাপ এলেই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, তর্ক-বিতর্ক ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফুটবলের বাইরে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসেও দেশ দুটির গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় রয়েছে। 

কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই রাষ্ট্রই ছিল প্রথম সারিতে। প্রশ্ন হলো, তাদের মধ্যে আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল কোন দেশ?

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে একই বছরের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্র ছিল ব্রাজিল।

বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ ফুটবল। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে লাখো সমর্থক নেইমার, মেসি ও তাদের সতীর্থদের খেলা উপভোগ করেন। ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দুই দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে বাংলাদেশি সমর্থকদের এক ধরনের আবেগঘন সম্পর্কও তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো এবং আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘এমি’ মার্টিনেজও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।

শুধু ফুটবল নয়, অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। একইভাবে আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিল এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতিও দেখা গেছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে পুনরায় দূতাবাস কার্যক্রম শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটিতে নিযুক্ত আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ এবং দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।

এএন