আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ফিফা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ ব্যবধানে হারের পর রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্ক ও পক্ষপাতের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। 

বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড ফিফা’-য় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কলিনা বলেন, ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা স্বাভাবিক। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমনকি ফিফা সভাপতিও রেফারিংয়ে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেন না।

কলিনার মতে, এই ধরনের মনগড়া অভিযোগ শুধু রেফারিদের পেশাগত মর্যাদাই ক্ষুণ্ন করে না, বরং তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচ শেষে দেশটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য রেফারির ওপর বিশেষ চাপ থাকতে পারে। একই সঙ্গে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

মিশরের প্রধান অভিযোগ ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকোর করা একটি গোল অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া ফাউলেরও কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।

তবে সব অভিযোগ নাকচ করে কলিনা বলেন, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই জিকোর গোল বাতিলের সুপারিশ করেছিল। কারণ, আক্রমণ শুরুর সময় মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেছিলেন।

তিনি বলেন, ফাউল মানেই ফাউল। মাঠের রেফারি তা না দেখলেও, আক্রমণ তৈরির পর্যায়ে ফাউল শনাক্ত হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।

মোহাম্মদ সালাহর ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পুরোপুরি সমর্থন করেন কলিনা। তাঁর ব্যাখ্যা, রেফারি ও ভিএআর উভয়ের মূল্যায়নেই এটি ছিল একটি ‘স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ’। ডিফেন্ডার আগে বলে স্পর্শ করলে পরবর্তী স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শকে ফাউল হিসেবে ধরা যায় না।

কলিনা আরও বলেন, ফুটবলে কিছু সিদ্ধান্ত সবসময়ই ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে। তবে চলমান বিশ্বকাপে ভিএআর ব্যবহারের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে ফিফা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।

জেএইচআর