২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নতুন অধ্যায়ের পথে হাঁটছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর প্রধান কোচের পদ ছাড়েন রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুসের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে।
যদিও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেনি, তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বুধবার এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সাংবাদিকদের বলেন, নতুন কোচকে অবশ্যই পর্তুগিজ ফুটবল সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখতে হবে এবং ফেডারেশন ও জাতীয় দলের জয়ের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। আমি নিজেই পুরো বিষয়টি দেখছি এবং আশা করছি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইতিবাচক খবর দিতে পারব।
পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ‘আ বোলা’ এবং স্পোর্টস নেটওয়ার্ক 'ইএসপিএন'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ৭১ বছর বয়সী জর্জ জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে এফপিএফ।
গত মে মাসে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে অধ্যায় শেষ করার পর বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট (চুক্তিহীন) হিসেবে রয়েছেন জেসুস। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর সাফল্যের তালিকা বেশ ঈর্ষণীয়।
বেনফিকার কোচ হিসেবে তিনটি লিগ শিরোপাসহ মোট ১০টি ট্রফি জিতেছেন জেসুস। ২০১৯ সালে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর দায়িত্ব নিয়ে মাত্র এক বছরের মধ্যে পাঁচটি বড় শিরোপা জিতে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচে পরিণত হন তিনি। পরে ২০২৩-২৪ মৌসুমে আল হিলালকে ঘরোয়া ট্রেবল জিতিয়েও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২৫ সালে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সেলেসাওদের সম্ভাব্য কোচ হিসেবেও জেসুসের নাম জোরেশোরে আলোচনায় ছিল।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে চায় পর্তুগাল। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। এখন নতুন অভিজ্ঞ কোচের হাত ধরেই ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন।
সামনের লক্ষ্য নিয়ে আশাবাদী এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা বলেন, পর্তুগিজ ফুটবলে নতুন এক জয়ের যুগ শুরু করতে চাই আমরা। এবারের বিশ্বকাপ আমাদের প্রত্যাশার অনেক নিচে ছিল। এখন যত দ্রুত সম্ভব সেই হতাশার জবাব দিতে হবে। সামনে নেশনস লিগ, সেখানে আমাদের লক্ষ্য শিরোপা জয়। এরপর রয়েছে ইউরো এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ, যা আমাদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন দুটোই এখন অনেক বড়।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন