নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে সকল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে, তা পূরণ করাই এখন দলের ‘একমাত্র অঙ্গীকার’ এ কথা জানিয়ে ঢাকা–৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, এই জনগণের দেওয়া রায়ই আমাদের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। তাই প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা দেখাবো।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে মিলব্যারাক জিরো পয়েন্টে নবনির্মিত একটি ফোয়ারা উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক এসব মন্তব্য করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি প্রায় ৩০ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় লক্ষ্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া, সংস্কার ইস্যু ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেন।
ইশরাক বলেন, দেশে নানা ধরনের সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোনো সংস্কারই কার্যকর হয় না। নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিটা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা কখনোই স্থিতিশীল হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন থামিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবে স্থগিত করা যায় না। কারণ এতে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ হারায়।
বক্তৃতায় ইশরাক হোসেন ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মূল স্থপতি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেন বেগম খালেদা জিয়া। তার দাবি গত ১৭ বছরে ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে জাতিকে বিভাজিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বলে জনগণকে ভাগ করে শাসন করা হয়েছে, মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের বিভেদমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে এখন সাধারণ মানুষই প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সেই প্রতিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
গত বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও তরুণদের শাহাদতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এক মাসে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ জীবন দিয়েছে গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার জন্য। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। জনগণ এবার ভোটের মাধ্যমে সেই আন্দোলনকে পূর্ণতা দেবে।
বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনগণ তাদের পাশে থাকবে দাবি করে ইশরাক বলেন, নির্বাচন পেছানোর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। নানা প্রস্তাব আনা হচ্ছে যাতে ভোটের মাঠকে জটিল করা যায়। কিন্তু দেশের মানুষ আর পিছিয়ে যেতে চায় না।
তিনি প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, এই পদ্ধতি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে জনগণ তাদের এলাকার প্রকৃত প্রতিনিধি বেছে নিতে পারবেন না। গণতন্ত্রকে মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে হলে সরাসরি জনগণের ভোটের ভিত্তিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অতীতের গুম, খুন ও নির্যাতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
আমরা ইলিয়াস আলীসহ হারিয়ে যাওয়া সকল নেতাকর্মীর ন্যায়বিচার চাই। তবে প্রতিশোধ নয় বিচার চাই আইনের ভিত্তিতে, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায়। রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্থান কখনোই থাকতে পারে না।
বক্তৃতায় বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চান। তিনি বর্তমানে সিসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। দেশের মা হিসেবে তার সুস্থতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দোয়ায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন এটাই আমাদের আশা।
তিনি বলেন, দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবিচল নেতৃত্বই দেশে গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। স্বৈরশাসনের পতন সম্ভব হয়েছে।
ইএইচ