১৮ মাস বাক্সবন্দি এক্স-রে মেশিন

নাটোর প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২২, ০৫:২৯ পিএম

অবহেলায় ১৮ মাস ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় এক্স-রে মেশিন। রোগীদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। বাড়তি টাকা দিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করতে হচ্ছে এক্স-রে। অন্যদিকে সঠিক সময়ে প্রতিস্থাপন না হওয়ায় বিকল হতে বসেছে রাষ্ট্রের টাকায় কেনা এক্স-রে মেশিনটি। এমন চিত্রই, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র।

সার্কিট ব্রেকারের লোড আরও ১০০ এম.পি.আর বৃদ্ধির ও ঠিকাদারের অবহেলায় ঘরে তোলা হচ্ছে না ১৮ মাস থেকে মেশিনটি। অথচ সরকারি সকল হাসপাতালের রোগ নির্ণয় মেশিন ও উপকরণগুলোর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে- প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা রয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে হাসপাতালে ব্যবহৃত এক্স-রে মেশিনটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে।

২০১৮ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নতুন এক্স-রে মেশিন ক্রয়ের আবেদন করেন। পরে স্থানীয় সরকার ও জাইকার সহযোগিতায় উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪৩ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক এক্স-রে মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে টেন্ডার দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি কার্যাদেশ পায় নাটোরের ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলম। ২০২১ সনের ২২ ফেব্রুয়ারিতে নতুন আধুনিক এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই বছরের ৬ মার্চ মেশিনটি হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে মেশিনটি প্রতিস্থাপন করার কথা থাকলেও অবকাঠামোগত ও সার্কিট ব্রেকারের লোড সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় করা হয়নি। রোগীর দুর্ভোগের কথা ভেবে উপজেলার সমন্বয় মিটিং এর সিদ্ধান্তে, কোম্পানির লোক নিয়ে এসে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেশিনটি প্রতিস্থাপন করার হবে। পরে ঠিকাদারের যে জামানত আছে তা থেকে খরচ সমন্বয় করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সেবা নিতে আসা রোগীর কথা ভেবে মেশিনটি ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু সাত মাস পার হলেও তা কাজে আসছে না। ফলে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেশিনটি প্রতিস্থাপনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এসএম