টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সেমিনার কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু। বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘব এবং দ্রুত পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই অর্থ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আর্থিক অনুদান হিসেবে বন্যায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার পরিবারগুলোকে আপদকালীন খরচের জন্য প্রতি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। উপজেলার ১৬ জন এবং পৌরসভার ৯ জনসহ মোট ২৫ জনের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
সরকারি এই তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মাটিরাঙ্গার দুর্গত এলাকার সাধারণ মানুষ। বানভাসি মানুষ জানান, আকস্মিক বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই সংকটময় সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে অনেক বড় সহায়তা করবে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি জসীম উদ্দিন জয়নাল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন সরকারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে সরকার সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত এই সহায়তা বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরবাড়ি মেরামত এবং দৈনন্দিন সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে। ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শুধু জরুরি ত্রাণই নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এএন