মনপুরায় ভোট না দিলে জমি কেড়ে নেয়ার হুমকি

ভোলা জেলা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৪, ০৪:৩০ পিএম

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চতুর্থ ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারনার এক সভায় গিয়ে আপনারা ৫ বছরের জন্য আমাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন, এখন ক্ষমতা আমার হাতে, আপনারা যদি আমার পছন্দের প্রার্থী জাকির মিয়াকে ভোট না দেন তাহলে আমি কাউকে ছাড়বো না। আমার সিদ্ধান্ত ফাইনাল, ভোট না দিলে যারা সরকারি খাস জমিতে আছেন তাদের জায়গায় অন্য মানুষ বসিয়ে দেবো।

ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের বিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন হাওলাদারের। এসব কথা বলার একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে

পরবর্তীতে রবিবার( ১৯ মে) সরেজমিনে  গেলে স্থানীয়রা জানায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জাকির হোসেন মিয়ার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে কলাতলী চরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে আবাসন বাজারে এক প্রচারণা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারা আরো জানায় বক্তব্যের ধারণ করা অডিও ক্লিপ ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এবং উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়ায়  ওই অডিও ক্লিপে স্পষ্ট ভাষায় আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, আমি এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের কাছে দায়বদ্ধ। তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে কলাতলীর সব এক হয়ে জাকির মিয়াকে ভোট দিবে,আপনারা যদি রূপ চেঞ্জ করেন তাহলে আমারও রূপ চেঞ্জ হবে। আমি সেই আগের আলাউদ্দিনই আছি।

এদিকে উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের দেয়া বক্তব্যের অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মনপুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বীপক নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা ও  তার সমর্থকদেরকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনেন।

গত শুক্রবার বিকেলে ভোলায় আগত নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) আহসান হাবিব খান ও ভোলা জেলা রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামানের বরাবর এক অভিযোগ পত্র জমা দেন।

অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের বক্তব্য ভাইরালের পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী দ্বীপক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য মো মোসলে উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে হুমকি প্রদান করেন। এছাড়াও  যারা দ্বীপকের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালায় তাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এবং ভোটের দিন সাধারণ মানুষ যেন ভোট কেন্দ্রে না যায় সে ব্যাপারে হুমকি দিয়ে আসছে আলাউদ্দিনের একাধিক ভাই।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান ইতঃপূর্বেও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল, কলাতলী চরের মানুষের উপর অত্যাচার, চরের এক জমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান পদ থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত হয়েছেন। এবং একজন শিক্ষককে শারীরিক নির্যাতনের দায়ে জেল খেটেছেন।

এদিকে আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান একজন  প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি হয়ে হুমকি দেওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

এমতাবস্থায় নির্বাচনি আচরণবিধি বহির্ভূত বক্তব্য প্রদানের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী দ্বীপক চৌধুরী।

এ ব্যাপারে উপজেলার কলাতলী ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারকে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান সেদিন আমি একটা সালিশ করছিলাম সেখানে আমার পছন্দের প্রার্থী জাকির সাহেবকে নিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম, কিন্তু আমি কোন উসকানিমূলক কথা বলিনি। এসব আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থী দ্বীপক চৌধুরীর এডিটিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল করে এবং শুনেছি তিনি নাকি আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ বিষয় দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)  মো. আলমগীর হুসাইন জানান অভিযোগের বিষয় আমরা তাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) দিয়েছি, শোকজের জবাব দিক,তারপর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিআরইউ