বগুড়ার ধুনট উপজেলাজুড়ে উন্নয়ন ও সংস্কারে বরাদ্দ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে দপ্তরসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে। যা উন্নয়নের ধারাকে বিঘ্ন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
সাধারণ মানুষের নানা প্রতিক্রিয়ায় কারণে বিষয়টি সংবাদ কর্মীদের নজরে আসে। পরবর্তীতে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য অনুসন্ধান করতে থাকে সংবাদ কর্মীরা।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা হতে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পাসের উন্নয়নের অনুকূলে ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। তার বিপরীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস ভবন মেরামত, পরিষদের অভ্যন্তরীণ ২০০ মিটার সড়ক নির্মাণ, উপজেলা ক্যাম্পাসের ভিতরে বসার জায়গা ও শেডসহ ঘাটলা নির্মাণ, উপজেলা ইছামতি ভবন সংলগ্ন বিভিন্ন কার্যালয় মেরামত, মোটরসাইকেল শেড নির্মাণ, সমাজ সেবা ও মহিলা বিষয়ক অফিসারের দপ্তরে আগত মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট নির্মাণ, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় মেরামত, উপজেলা পরিষদের জরাজীর্ণ ও বসবাস অনুপযুক্ত করতোয়া ভবন মেরামত, উপজেলা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের গেট নির্মাণ ও শহীদ মিনার চত্বরে গেট নির্মাণ, অফিসার্স ক্লাব, পরিষদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে রান্নার জন্য রান্নাঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, উপজেলা পরিষদের নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য পুরাতন কমপ্লেক্স ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। ভবনে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, উপজেলা সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক, সমবায়, পরিসংখ্যান, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অফিস ছিল। পরবর্তীতে অফিসসমূহ পরিষদের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে দুটি জরাজীর্ণ ও বসবাস অনুপযুক্ত ভবনে অফিস জরুরি স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ভবনসমূহ সেবা উপযোগী করার তাগিদে বিশেষভাবে বরাদ্দের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে বরাদ্দ সাপেক্ষ এবং মাসিক সমন্বয় সভার সিন্ধান্তক্রমে কাজসমূহে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮ অনুসরণ করে উক্ত কার্যাবলী সম্পাদন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে শুকনো পুকুরে ঘাটলার কি প্রয়োজন ছিল? তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরিষদের অভ্যন্তরীণ এই পুকুরটি সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুকুরটিতে পানি না থাকায়, জঞ্জাল জমে মশার উপদ্রব হয় এবং অত্যন্ত দৃষ্টিকটু অবস্থায় পুকুরটির অবস্থান ছিল। পুকুরে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃষ্টি, মাছ চাষ, দৃষ্টিনন্দন শেড সহ বসার জায়গা নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। যার প্রেক্ষিতে প্রথমত ঘাটলার কাজটি শুরু হয়।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান জানান, উন্নয়ন ও সংস্কারে বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরসহ জনমনে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে তা খুবই দুঃখজনক। মূলত বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। অনলাইন বা প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়ে থাকে। বরাদ্দকৃত অর্থের কাজ নিজেদের মনমত পছন্দের কাউকে দিয়ে করানোর কোনো সুযোগ নেই।
ইএইচ