সিলেটে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক

আতিকুর রহমান নগরী, সিলেট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

সিলেটে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুর। পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন সড়কে, এমনকি গলির রাস্তা পর্যন্ত দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায় এসব কুকুর। কোনো কোনো কুকুরের দলে ১০–১৫টি, আবার কোথাও ২০–২৫টি কুকুর দেখা যায়। ফলে পথচারীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কুকুরের ভয়ে নিরাপদে চলতে পারছেন না।

নগরীর শিবগঞ্জ সোনারপাড়ার কয়েকজন কিশোর লাঠি হাতে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার কথা জানান, কারণ কুকুরের ভয়ে তারা নিরাপদে রাস্তায় হাঁটতে পারছেন না।

শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রোমানা আক্তার জানান, ৭ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সকাল পৌনে ৮টায় মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন। পথে ৪–৫টি কুকুর তাদের ঘিরে ফেলে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে কুকুরগুলো চলে যায়। এইভাবে নগরবাসীকে দিনরাত কুকুরভীতি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

জানা যায়, ভাদ্র–আশ্বিন মাস কুকুরের প্রজননকাল। এই দুই মাসে কুকুরের উপদ্রব অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়ে যায়। নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে, কিন্তু সিসিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।

২০১৯ সালে উচ্চ আদালত কুকুর নিধন নিষিদ্ধ করেন। এরপর থেকে সিসিক কুকুর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বন্ধ রাখছে। ফলে ছয় বছরে নগরীতে কুকুরের সংখ্যা অন্তত ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলায়ও রাস্তায় চলাচল করা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের বেলায় কুকুরদের আগ্রাসী আচরণ ভয় বৃদ্ধি করছে। 

শিবগঞ্জ লামাপাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম মনি বলেন, “কুকুরের ভয়ে সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাওয়াও নিরাপদ মনে হয় না। ভয়ের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।”

শিক্ষাবিদ মো. আবদুল বাছিত বলেন, “ফজরের নামাজের আগে রাস্তায় হাঁটতাম। এখন কুকুরের ভয়ে চলাচল বন্ধ। ফুটপাতে দলবেঁধে বসা কুকুর ও শুয়ার কারণে পথচারীরা ভয় পাচ্ছেন। আশা করি সিসিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানান, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শহীদ সামসুদ্দীন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাক্সিনের পরিমাণ অপ্রতুল। যেখানে ৭০০–৮০০ ভায়াল থাকা উচিত, সিসিক পাচ্ছে ৫০০ ভায়াল ভ্যাক্সিন।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও কার্যকর করা সম্ভব নয়। আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো প্রাণীর অঙ্গহানি বা ক্ষতিসাধন করা যাবে না। তবে কামড়ে আহত ব্যক্তিদের জন্য প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে উচ্চ আদালত নির্বিচার কুকুর নিধনকে অমানবিক ঘোষণা করে বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে কুকুরকে বন্ধ্যা করে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন প্রাণীকে নিধন বা অপসারণ করা যাবে না।

ইএইচ