নৌপরিবহন খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

পানগাঁও আইসিটি লিজ ও হেভি লিফ্ট জেটি প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষর

আজিজুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম

রাজধানীর বিআইডব্লিউটিএ সম্মেলন কক্ষে নৌপরিবহন খাতের দুটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একটি চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) এককভাবে পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে। 

অন্য চুক্তির মাধ্যমে “পশ্চাদ সুবিধাসহ হেভি লিফ্ট কার্গো জেটি নির্মাণ প্রকল্প” বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, পানগাঁও আইসিটি ও তৎসংলগ্ন ৪৮.২৪ একর জায়গা বিআইডব্লিউটিএ থেকে লিজ নিয়ে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এককভাবে পরিচালনা করবে। চুক্তি প্রথমে ১০ বছরের জন্য থাকলেও সর্বমোট মেয়াদ ৩০ বছর।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে সড়কপথের চাপ কমবে এবং নদীপথে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও ব্যবসাবান্ধব পরিবহন আরও জনপ্রিয় হবে। এছাড়া পানগাঁও আইসিটিতে ফ্রি কটন জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

হেভি লিফ্ট কার্গো জেটি প্রকল্প লালদিয়া-২ এলাকায় নির্মিত হবে। জেটির দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং এটি প্রতি বর্গমিটারে ৫ টন ভার বহন করতে সক্ষম, যেখানে বর্তমানে ব্যবহৃত এনসিটি বার্থ নং-৫ মাত্র ৩ টন বহন করতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারী শিল্প কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌবাহিনীর পক্ষে রিয়ার এডমিরাল (অব.) আনোয়ার হোসেন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুটি চুক্তি দেশের বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পানগাঁও আইসিটির দীর্ঘমেয়াদি লিজ নদীপথের ব্যবহার বাড়াবে এবং হেভি লিফ্ট কার্গো জেটি আন্তর্জাতিক মানে ভারী শিল্প কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নিশ্চিত করবে। এটি বাংলাদেশের নৌপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইএইচ