আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এ বছর মিষ্টি আলুর ভালো ফলন হয়েছে। ফলন আশানুরূপ হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা মিষ্টি আলুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এ বছর উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বড়বাড়ীয়া, কৈজুরী, ধারাবর্ষা ও ভাটারা ইউনিয়নের মোহনগঞ্জ, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আকারে আলুর চাষ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ এখন মিষ্টি আলুর সবুজ পাতায় ছেয়ে আছে।
সরেজমিনে কামরাবাদ ও ভাটারা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষেরা কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে আলু তুলছেন এবং নারী ও শিশুরা তা সংগ্রহ করে স্তূপ করছেন। দিনের শেষে ক্ষেতেই আলু মেপে বস্তাবন্দি করা হচ্ছে। অনেক কৃষক আলুর লতা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আলুর তোলার এই কর্মব্যস্ততা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি করলেও দামের দুশ্চিন্তা কাটছে না চাষিদের।
তরুণ কৃষক কবীর হোসেন বলেন, অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ শুরু হয় এবং ফাল্গুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আলু পরিপক্ক হয়। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম অনেক কম বলে তিনি জানান।
ধারাবর্ষা গ্রামের চাষি ইয়াজ উদ্দিন ও মোস্তফাসহ অন্যরা জানান, ১ বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ভালো দাম থাকলে বিঘাতে ৮০-৯০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব। তবে গত বছর প্রতি মণ আলু ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ মৌসুমে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ধানের চেয়ে লাভজনক হলেও বর্তমান বাজারদরে চাষিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় মিষ্টি আলুর বেপারী মতিউর রহমান জানান, ঢাকায় মিষ্টি আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি এলাকা থেকে আলু সংগ্রহ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। এ বছর দাম কিছুটা কম এবং বর্তমানে মণপ্রতি ৬০০-৭০০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়েছে এবং কৃষকরা ফলনও ভালো পেয়েছেন। বাজারদর কেন কম, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জেএইচআর