মাগুরা সদর হাসপাতালে ব্যক্তি উদ্যোগে নেবুলাইজার স্থাপন, মিলছে সাময়িক স্বস্তি

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০১:১২ পিএম

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের নেবুলাইজার সংকট আংশিকভাবে নিরসন হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনটি নতুন স্ট্যান্ড নেবুলাইজার মেশিন স্থাপনের ফলে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কিছুটা গতি ফিরেছে। তবে এই উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও একটি জেলা সদর হাসপাতালের মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকট নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার সকালে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাসুদ হাসান খান কিজিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই তিনটি মেশিন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডসহ দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করেন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে যেখানে একটি মাত্র মেশিন ঘিরে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো, এখন জরুরি সেবাগুলো কিছুটা দ্রুত প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে আগে মাত্র একটি সচল নেবুলাইজার ছিল। অথচ প্রতিদিন শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অসংখ্য শিশুর ভিড় থাকে। এতে গুরুতর রোগীদেরও সিরিয়ালের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, যা চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছিল।

নতুন মেশিন স্থাপনের পর কৃষ্ণা রানী নামে এক অভিভাবক জানান, আগে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত সেবা পাওয়া কঠিন ছিল। এখন নতুন মেশিন যুক্ত হওয়ায় অপেক্ষার সময় কমেছে এবং চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে।

নেবুলাইজার স্থাপনকারী মাসুদ হাসান খান কিজিল বলেন, অসুস্থ শিশুদের কষ্ট দেখে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকেই এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিয়েছি। তবে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা মূলত সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০-এর বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন। শিশু ওয়ার্ডে ৪৫টি বেড থাকলেও একটি মেশিন দিয়ে চাপ সামলানো সম্ভব ছিল না। নতুন মেশিনগুলো সেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তি উদ্যোগে সংকট সাময়িকভাবে কমলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। একটি জেলা সদর হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে সরঞ্জামের ঘাটতি থাকা উদ্বেগজনক।

পরিকল্পিত সরকারি বরাদ্দ ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

জেএইচআর