রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার বহুল আলোচিত ও দীর্ঘদিনের ক্লু-লেস শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে আদিব আহনাফ তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে কর্ণহার থানার বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় তার পিতার ঘাসক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কর্ণহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. হাফিজুর রহমান বিপিএম-সেবার তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে এসআই (নিঃ) মো. এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সূত্রের সহায়তায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে আক্রোশ ও প্রতিশোধপরায়ণতা থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ডিবি সূত্র জানায়, এক কিশোরের একটি মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি ভিকটিম আদিব জানতে পেরে ওই মেয়ের মাকে জানায়। পরে মেয়ের মা বিষয়টি অভিযুক্ত কিশোরের মাকে অবহিত করলে তার মা তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে সে।
ডিবি পুলিশ জানায়, রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে কৌশলে আদিবকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গত ২১ জুন অভিযানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও ঘটনায় জড়িত ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কোমরের বেল্টও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ তদন্ত, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে অপরাধ দমনে ডিবি, আরএমপির পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার আরও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
এএন