ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিশিষ্ট আলেম ক্বারী আবু বায়হানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা বা জিডি নিতে থানা গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে। হামলার পর হাসপাতালের রিপোর্ট, জখমের ছবি ও ভিডিও দেখানোর পরও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
গত রোববার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগীর পরিবার। আহত ক্বারী আবু বায়হান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে অভিযোগ করেন, হামলার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিতে রাজি হয়নি। এ সময় তারা হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদন, আহত হওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দেখালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা জানতে পারি, হামলাকারীর বড় ভাই ইউনিয়ন জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক হওয়ায় থানায় বিষয়টি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ছেলে আরও জানান, তিনি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ই-মেইল করেন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “একজন সাধারণ মানুষ, যার কাছে স্মার্টফোন নেই বা যোগাযোগের সুযোগ নেই, তিনি কীভাবে বিচার পাবেন? পুলিশকে কেন এত সহজে প্রভাবিত করা যাবে? কেন একজন সাধারণ মানুষকে বিচার পাওয়ার জন্য অনলাইনে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে?”
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এমপি তাদের বাসায় গিয়ে আহত ক্বারী আবু বায়হানের খোঁজ নিয়েছেন। তবে সেখানে গিয়েও কেন জামায়াতের নাম নেওয়া হয়েছে এবং কেন ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে- এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “প্রশ্ন হলো, কেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হবে? কেন ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচারের জন্য বারবার বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে?”
ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
এএন