পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতে নাফাখুমে পর্যটকদের দুর্ভোগ

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে বান্দরবানের থানচি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র নাফাখুম ঝর্ণা এলাকায় পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বেড়াতে যাওয়া বেশ কয়েকজন পর্যটক আটকা পড়েছেন। পাহাড়ি ঢল ও সাঙ্গু নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান চলাচল এবং পর্যটকদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নাফাখুম ঝর্ণা, রেমাক্রী খাল ও আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে নাফাখুম এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের একটি অংশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করছেন।

স্থানীয় পর্যটক গাইড মার্টিন ত্রিপুরা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নাফাখুমের পানি অনেক বেড়ে গেছে। স্রোতও অত্যন্ত তীব্র। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা কাউকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দিচ্ছি না। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে।

আটকে পড়া এক পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হব, ভাবিনি। তবে স্থানীয় গাইড ও প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমরা চাই, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিরাপদে ফিরে যেতে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সল বলেন, মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। নাফাখুম এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে টানা বর্ষণে থানচি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় ছড়া ও ঝিরিগুলোতেও পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নাফাখুমসহ দুর্গম পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

এএন