রাঙামাটিতে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক বাবা-মা

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙামাটি প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত এক যুবক দা'র কোপে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আসামবস্তি এলাকার সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল ইসলাম (২৫) অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ও গৃহবধূ রাখাই ইসলামের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসা করানো হয় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগে তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে তার বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল। মাদক সেবন ও কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই তার ঝগড়া-বিবাদ হতো। থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাকিবুল মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক সেবন ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার মা ধারালো দা দিয়ে ঘাড়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম আহত সাকিবুলকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম নিয়ে সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময়ই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের বাবা-মাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, সাকিবুলকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে তার বাবা-মা বহুবার চেষ্টা করেছেন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবা সন্তানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেননি।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কী পরিস্থিতিতে এবং কার আঘাতে সাকিবুলের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এম জি