এক নজরে বাংলাদেশের বিগত ৫৪টি বাজেট

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত সীমিত। মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার এক যুদ্ধবিদ্ধস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে পথচলা শুরু করা সেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ব্যবধানে এসে এক অনন্য অর্থনৈতিক উচ্চতায় দাঁড়িয়েছে। আজ ১১ জুন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট হিসেবে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। বর্তমান সরকারের মেয়াদে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আজ এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের ঠিক আগে বাজেটটি বিশেষ ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন এবং আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর। এবারের বাজেটের মূল ভাবনায় স্থান পেয়েছে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’- এই সম্ভাব্য প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী দেশের আগামী এক বছরের সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও উন্নয়ন পরিকল্পনা জাতির সামনে পেশ করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দেওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছিলেন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭২ সালে তিনি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য দেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন, যার আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। স্বাধীন দেশের প্রথম তিনটি বাজেটই ছিল তাঁর হাত দিয়ে তৈরি। তবে এরও আগে ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মুজিবনগর সরকার দৈনন্দিন ও অপরিহার্য রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি বাজেট পেশ করেছিল। স্বাধীনতার পর থেকে এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন মেয়াদে বাজেট পেশ করেছেন। আজ ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হবেন বাংলাদেশের বাজেট পেশকারী ১৫তম ব্যক্তি।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৫৫ বছরের ব্যবধানে দেশের বার্ষিক বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১,৩০৩ গুণ। এর আগে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ७ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম ছিল। মূলত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগের বছরের তুলনায় ছোট আকারের বাজেট উপস্থাপনের নজির তৈরি হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেই বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এটি ছিল তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট। তার আগে টানা পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তাঁর পূর্বসূরি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন। এর আগে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া টানা sechsটি বাজেট পেশ করেছিলেন। তবে মোট বাজেট উপস্থাপনের সংখ্যার বিবেচনায় আবুল মাল আবদুল মুহিত ও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান যৌথভাবে দেশের ইতিহাসে শীর্ষে রয়েছেন। আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১০টি বাজেট ছাড়াও আশির দশকে এরশাদ সরকারের সময়ে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের দুটি বাজেট পেশ করেছিলেন। ফলে তাঁর উপস্থাপিত মোট বাজেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টি। একইভাবে এম সাইফুর রহমানও বিভিন্ন মেয়াদে বিএনপি সরকারের হয়ে মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন, যা দেশের বাজেট ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড।

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি অর্থবছরের বাজেট ঘোষক, প্রস্তাবিত এবং সংশোধিত বাজেটের আকারের তালিকা ক্রমানুসারে জানা যায়। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৭১৯.৪০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬৮৭.৮০ কোটি টাকা। ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রস্তাবিত বাজেট ৮২০.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৮২৮.২ কোটি টাকা। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রস্তাবিত বাজেট ৯৯৫.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১০৫.১ কোটি টাকা। ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী ড. আজিজুর রহমান মল্লিকের প্রস্তাবিত বাজেট ১,৫৪৯.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১,৫৩৩.৭ কোটি টাকা। ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ১,৯০৮.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১,৮NT.৬ কোটি টাকা। ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে রাষ্ট্রপতি ও অর্থমন্ত্রী লে. জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ২,০৯৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,২৮৮.২ কোটি টাকা। ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরেও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ২,৪৯৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৭৭৬ কোটি টাকা।

পরবর্তী বছরগুলোতে বাজেটের আকার ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে। ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী ড. এম এন হুদার প্রস্তাবিত বাজেট ৩,৩১৭.৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,৭৬৮.৯ কোটি টাকা। ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৪,২২৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,৯৫৫.৮ কোটি টাকা। ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৭৮৮.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৭২৫.৩ কোটি টাকা। ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৮৫৪.১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৮৫৪.১ কোটি টাকা। ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ৬,০৫৬.৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,১৩৬ কোটি টাকা। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামানের প্রস্তাবিত বাজেট ৬,৯৩৩.৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,৬৪৫.৪ কোটি টাকা। ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামানের প্রস্তাবিত বাজেট ৭,২৬৮.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭,৬৫৯.৫ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে বাজেটের আকার ১০ হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের প্রস্তাবিত বাজেট ৯,১১২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯,২৭৬.৪ কোটি টাকা। ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের প্রস্তাবিত বাজেট ১০,৩০০.৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১০,৩৯৯.৬ কোটি টাকা। ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মুনিমের প্রস্তাবিত বাজেট ১১,০৬০.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১১,৪৭৯.৭ কোটি টাকা। ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হকের প্রস্তাবিত বাজেট ১৩,৪৬২.৩০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১২,৮৭২.৫ কোটি টাকা। ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মুনিমের প্রস্তাবিত বাজেট ১৩,৯৮৯.৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৫,৭৭২.১ কোটি টাকা।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে বাজেটের আকার ২০ হাজার কোটির ঘর ছাড়ায়। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ১৬,৩৭৩.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৬,৬৪৩.৩ কোটি টাকা। ১৯৯-৯৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ১৮,বধু.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৮,০১৬ কোটি টাকা। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ১৯,৯৫২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২১,৩১৯ কোটি টাকা। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ২১,৭৩৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৩,০৮৯ কোটি টাকা। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ২৪,৭০৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৩,৬৫৩ কোটি টাকা। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রস্তাবিত বাজেট ২৫,২৫৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৫,MD১ কোটি টাকা। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রস্তাবিত বাজেট ২৭,৭৮৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৭,০০৭ কোটি টাকা।

নতুন শতাব্দীর শুরুতে বাজেটের প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রস্তাবিত বাজেট ৩০,০৯৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩০,২০৬ কোটি টাকা। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রস্তাবিত বাজেট ৩৬,১৭৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩৭,৯৫৩ কোটি টাকা। ২০০০-০১ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রস্তাবিত বাজেট ৪২,৮৫৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪১,৯৯৫ কোটি টাকা। ২০০১-০২ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার প্রস্তাবিত বাজেট ৪৪,৭৬৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩৯,৪৯৫ কোটি টাকা। ২০০২-০৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৪৪,৮৫৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪৪,৯০৪ কোটি টাকা। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৫১,৯৮০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪৯,৩৬৭ কোটি টাকা। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৫৭,২৪৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫৫,৬৩২ কোটি টাকা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৬৪,৩৮৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬১,০৫৮ কোটি টাকা।

বিগত দুই দশকে এসে বাজেট লাখ কোটি টাকার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রস্তাবিত বাজেট ৬৯,৭৪০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬৬,৮৩৬ কোটি টাকা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের প্রস্তাবিত বাজেট ৮৭,১৩৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯৩,৬০৮ কোটি টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের প্রস্তাবিত বাজেট ৯৯,৯৬২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯৪,১৪০ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ১০ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৩০ হাজার ১১ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা।

পরবর্তী বছরগুলোতে বাজেটের আকার দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২ লাখ ১৬ হাজার ২২২ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৩৯,৬৬৮ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ২,৯৫,১০০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৬৪,৫৬৫ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,১৭,১৭৪ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৬৪,৫৭৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৪২,৫৪১ কোটি টাকা।

বাজেটের শেষ কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেট ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫,৯৩,৫০০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেট ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,৬০,৫০৭ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেট ৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রস্তাবিত বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০export-২৬ অর্থবছরে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং চলমান অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার যেখানে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, সেখানে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক আয় ও ব্যয়ের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান বা নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ казু হাজার কোটি টাকা। বড় অঙ্কের এই বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের ব্যাংক ঋণের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছে নতুন সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ এই উৎসের মধ্যে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সরকারি খাত থেকে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)

এএন