অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৭ বছর দেশের মানুষ নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, অনেককে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে, আবার অনেককে দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যারা একসময় নির্যাতিত ছিলেন, তাদের মধ্যেও এখন কেউ কেউ অত্যাচারীর ভূমিকায় চলে যাচ্ছেন।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নানা নাটকীয়তার পর ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে বলা হয়েছে, নির্বাচন সম্পন্ন করতে অনেক বিষয়ে আপস করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং এমন ধারণা দেওয়া হচ্ছে যে মানুষ না বুঝেই গণভোটে রায় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কষ্ট সবার পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যারা কারাবন্দি হননি বা শহীদ পরিবারের বেদনা অনুভব করেননি, তারা সেই বাস্তবতা পুরোপুরি বুঝতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন ও সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপির সঙ্গে মিলেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াতে ইসলামী কোনো আন্দোলনের পথ বেছে নেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দলটি নির্বাচন মেনে নিয়েছে, কিন্তু গণভোটের রায়ের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান আগের মতোই অনড় থাকবে বলে তিনি জানান।
এএন