মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম
মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. অহিদুল ইসলাম দিনভর শালিখা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘুরে দেখেছেন, উদ্বোধন করেছেন নতুন উদ্যোগ, আর মতবিনিময় করেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা এ কর্মসূচি জনতার কাছে এক ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
দিনের শুরুতেই তিনি যান আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের হাতে ভিজিএফ ও ভিডব্লিউবি কার্ডের চাল তুলে দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “সরকারের এই সহায়তা মানুষের কষ্ট লাঘবে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে, এটাই আমাদের সাফল্য।”
এরপর গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে গিয়ে নবনির্মিত পুলুম ভূমি অফিস ভবন ঘুরে দেখেন তিনি। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, সাবেক খাটোর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের মাঝে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দেন। ওই ইউনিয়নের মধুখালী কবরস্থান সংলগ্ন ইদগাহ ময়দানের নির্মাণকাজ প্রত্যক্ষ করেন তিনি। স্কুল পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। শিক্ষা ও সততার শক্তিই হবে তোমাদের মূল পুঁজি।”
বিকেলে বুনাগাতী ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। সেখানকার বাসিন্দা কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসককে এত কাছে পেলাম। আমাদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনলেন। এটা আমাদের আস্থাকে আরও বাড়িয়েছে।”
বুনাগাতী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কিশোরী সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই সমাজ এগিয়ে যাবে। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিজের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করতে পারে, সে দায়িত্ব আমাদের সবার।” তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চারা গাছও রোপণ করেন।
দিনের শেষভাগে তিনি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শিশু পার্ক উদ্বোধন করেন। উপস্থিত অভিভাবক মোসা. রহিমা খাতুন বলেন, “আমাদের সন্তানদের জন্য এ ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা আগে কখনো ছিল না। জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগে আমরা কৃতজ্ঞ।” এরপর উপজেলা পরিষদ মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ দিনভর এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিত ও আন্তরিকতা তাদের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে।
জনপ্রতিনিধি থেকে সাধারণ মানুষ—সবার মুখে একটাই কথা, “অহিদুল ইসলাম শুধু একজন প্রশাসক নন, তিনি মানুষের প্রশাসক।”
নিজের অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “জনগণের উন্নয়ন ও সেবাই প্রশাসনের মূল কাজ। মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করলেই উন্নয়ন টেকসই হয়। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
জেএইচআর