নলছিটি প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গতি ফিরেছে।
নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন ইউনিয়নের প্রশাসক অহিদুল ইসলাম। তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা পালিয়ে যান। জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় এসব ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
ভৈরবপাশা ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়ে অহিদুল ইসলাম সেবায় নিয়োজিত হওয়ার পর থেকে পরিষদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের কাজের গতি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন সহজে এবং হয়রানি ছাড়াই। ফলে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি কমেছে এবং তারা প্রশাসকের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।
প্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় কিছু রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন ধরে খারাপ ছিল। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু রাস্তা মেরামত ও নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবান বেগম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে এখন সেবা সহজে পাওয়া যায়। কোনো ধরনের হয়রানি নেই।”
৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমুল হাসান টিটু বলেন, “আগে অফিসে গেলে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন প্রশাসক নিয়মমাফিক আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। যেকোনো কাজ দ্রুত সমাধান হচ্ছে।”
স্থানীয় যুবদল নেতা সোহেল জানান, “কিছু ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে প্রশাসকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তবে বাস্তবে তিনি আসার পর ইউনিয়নে অনেক কাজ হয়েছে।”
ইউপি সদস্যরাও জানিয়েছেন, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে প্রশাসক পরিকল্পনার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। যেমন যেখানে ১৮০ ফুট রাস্তা করার কথা ছিল, সেখানে ১৯০-১৯৫ ফুট রাস্তা করা হয়েছে। আবার ৫ ফুট প্রস্থের রাস্তা ৬ ফুট করা হয়েছে এবং যেখানে ৬ ফুট বালু দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে ৯ ফুট বালু দেওয়া হয়েছে।
ভৈরবপাশা ইউনিয়নের প্রশাসক অহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনগণের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে আমার আরেকটি দায়িত্ব আছে, তারপরও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টিআর ও একটি করে কাবিখা প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।”
ইএইচ