কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) চাকরি পেয়েছেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) আয়োজিত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।
ফেলানীর মর্মস্পর্শী হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই করে আসছে ফেলানীর পরিবার। তবে আজকের দিনটি তাদের কাছে বেদনার মাঝেও নতুন আনন্দ নিয়ে এসেছে।
আরফান হোসেন বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য কাজ করা। ফেলানী হত্যার পর সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তখন থেকেই আমাদের ইচ্ছা ছিল আমি বিজিবিতে চাকরি করব। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। দেশের মানুষের জন্য কাজ করব।”
ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন, “ভারত থেকে ফেরার পথে আমার মেয়েকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে বিএসএফ। সেই দৃশ্য আজও ভুলতে পারিনি। দেশের মানুষ ও বিজিবি সবসময় আমাদের পাশে ছিল। দোকান করে দিয়ে আমাকে সহায়তা করেছে। আজ আমার ছেলে মেধা ও যোগ্যতায় বিজিবিতে সুযোগ পেয়েছে—এটা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। বিজিবিকে ধন্যবাদ জানাই।”
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “বিজিবি সব সময় ফেলানীর পরিবারের পাশে ছিল। আরফান হোসেন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেবেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রশিক্ষণ শেষে তিনি একজন দক্ষ বিজিবি সদস্য হিসেবে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ফেলানী হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য বিজিবি সীমান্তে সর্বদা সতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছে।”
ইএইচ