পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম
পীরগঞ্জ ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এলাকার ১৬ জন ব্যক্তি ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে উপ-সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) গত ২৬ নভেম্বর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এন.এম. ইশফাকুল কবীর এর বিরুদ্ধে রঘুনাথপুর মহল্লার রেজাউর করিমের পুত্র আজিজুল হকসহ এলাকার ১৬ জন ব্যক্তি সম্প্রতি ওই মন্ত্রণালয়ে সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম: প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ঠাকুরগাঁও আদালতের নির্দেশ অমান্য করা, সেবাপ্রত্যাশী গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করা ও চাওয়া, গ্রাহককে সীমাহীন হয়রানি করা, অশ্লীল ও মানহানিকর ভাষা প্রয়োগ করা, হুমকি ধামকি দেওয়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুনাম নষ্ট করা, নামজারি আবেদন ও নাম খারিজ বাতিলের দরখাস্ত শুনানিতে আইনগত ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা।
এছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৮ বিসিএস-এ নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এলাকায় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেনসহ অনেকেই জানান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগগুলোর মধ্যে গত ৪ নভেম্বর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, রংপুর ও কমিশনার এর নির্দেশে ওই কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আর্নিকা আক্তার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ৩৬ দিন পেরিয়ে গেলেও ঠাকুরগাঁও ডিসি ইশরাত ফারজানা বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ এখনও বাস্তবায়ন করেননি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে গত ২৬ নভেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে উপ-সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে পীরগঞ্জ উপজেলা এসিল্যান্ড এন.এম. ইশফাকুল কবীরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবগত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
দুটি তদন্তের চিঠি বর্তমানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে। তদন্ত না হওয়া ও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইশরাত ফারজানার সঙ্গে মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এন.এম. ইশফাকুল কবীর জানান, অভিযোগগুলো সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, “তদন্ত করে সত্যতা পেলে, ডিপার্টমেন্ট আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
বিষয়টি অভিযোগকারীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইএইচ