ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সখীপুরে ব্যাগিং ও ঝোপ পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষে মামা-ভাগ্নের সাফল্য

আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল)

আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল)

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

সখীপুরে ব্যাগিং ও ঝোপ পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষে মামা-ভাগ্নের সাফল্য

মামা-ভাগ্নে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ ও ঝোপ পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি নিয়মিত বাগান পরিচর্যার মাধ্যমে তারা এই সাফল্য পান।

মামা-ভাগ্নের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়মৌশা গ্রামে। চলতি মৌসুমে তিন একর জমিতে গোল্ডেন -৮ জাতের পেয়ারা চাষে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। এই মৌসুমে ১৮ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করার আশা করছেন তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা। তারা জানান, সব খরচ বাদে প্রায় ১০ লাখ টাকা মুনাফার আশা করছেন। 

তাদের ভাষ্য মতে, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করলে পেয়ারায় কীটনাশক ব্যবহার কম হয়। এতে পেয়ারার গুণগত মান ঠিক থাকে। অন্যদিকে ঝোপ পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করলে সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়।

সাত বছর আগে উপজেলার বড়মৌশা গ্রামে তিন একর জমি ইজারা নিয়ে পেয়ারা চাষ শুরু করেন। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর তাঁর বাগানের প্রতিটি গাছে প্রচুর পেয়ারা ধরেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাঁর বাগানে গিয়ে পেয়ারা কিনে ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই বাগানে প্রতিদিন ৮/১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। 

মামা জয়নাল আবেদীন বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করলে পোকার আক্রমণ থেকে পেয়ারা রক্ষা করা যায়। সেই সঙ্গে কীটনাশকও ছিটাতে হয় না। তাঁর বাগানে ১ হাজার ৬০০ পেয়ারাগাছ আছে। এর মধ্যে ১ হাজার  গাছে তিনি ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছেন। বাকিগুলোতে ঝোপ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

গাজীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া জানান, তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার এ বাগানে পেয়ারা কিনতে আসেন। ৮০-৯০ টাকা কেজি পেয়ারা কিনে ১৩০-১৩০ টাকা কেজিতে খুচরা বিক্রি করেন শাহীন মিয়া।

সখীপুরের আরেক ব্যবসায়ী আবদুল বাছেদ মিয়া বলেন, ‘আমি ও আমার আরেক ভাই মিলে সখীপুর বাসস্ট্যান্ডে পেয়ারা, এক ধরনের কেটে প্লেটে করে পথচারীদের কাছে বিক্রি করি। জয়নাল আবেদীন ও আবু সাইদের বাগান থেকে পাইকারি এনে বিক্রি করে বেশ টাকা আয় হয়।’

ভাগিনা আবু সাইদ বলেন, পেয়ারা যখন আকারে ছোট থাকে, তখন একধরনের ক্ষতিকর পোকা পেয়ারার ওপর হুল বিঁধিয়ে দেয়। এতে পেয়ারার ভেতরে ক্ষতিকর পদার্থ ঢুকে পেয়ারা আস্তে আস্তে পচে যায়। পেয়ারার ওপর দিয়ে পলিথিন পেঁচিয়ে ব্যাগিং করে দিলে ওই পোকা হুল বিঁধাতে পারে না। ফলে পচন রোগ থেকে রক্ষা পায় পেয়ারা। এ পদ্ধতিকে ব্যাগিং পদ্ধতি বলে।

আর ঝোপ পদ্ধতি হচ্ছে, যে ডালে পেয়ারা ধরে, সেই ডাল থেকে পেয়ারা সংগ্রহের পর ডালটির কিছু অংশ রেখে কেটে ফেলতে হয়। ওই কাটা স্থানে ১৫ দিন পর নতুন পাতা গজাবে। এরপর ফুল ও পেয়ারা ধরবে। এভাবে চার মাস পর একই ডালে আবার পেয়ারা ধরবে। পরিচর্যার মাধ্যমে বছরে তিনবার বাগান থেকে পেয়ারার ফলন পাওয়াকে ঝোপ পদ্ধতি বলে।

এছাড়াও মামা -ভাগ্নে তিন একর জমিতে সবরি কলা ও আরো তিন একর জমিতে আপেল কুল চাষ করেও সফলতা পেয়েছেন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, জয়নাল আবেদীন ও আবু সাইদ সফল উদ্যোক্তা। আমি ওদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, সখীপুরের মাটি আম, জাম, পেয়ারা, মাল্টা, কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এখানে একসময় ফ্রুট জোন হবে। সখীপুরে একচিলতে জমিও অনাবাদি নেই। সখীপুরের বড়মৌশা এলাকার জয়নাল আবেদীন ও আবু সাইদ সফল উদ্যোক্তা। তারা ব্যাগিং ও ঝোপ পদ্ধতি অবলম্বন করে পেয়ারা চাষে সফল হয়েছেন। তাঁদের কার্যালয় থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এএন

Link copied!