গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। ফাল্গুন মাসে শীতলা পূঁজা উপলক্ষে প্রতিবছরই বসে এ জামাই মেলা। যেখানে জামাইদের উপস্থিতি ও কেনাকাটাই হয়ে ওঠে প্রধান আকর্ষণ। জামাইরা মাছ, মিষ্টি কিনে যান শ্বশুর বাড়িতে। আর বাড়িতে বাড়িতে জমে ওঠে আনন্দ-উৎসবে।
ফাল্গুনের আমেজে উৎসবের রং আর জামাই-মেয়ের আগমনে মুখরিত টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রাম। গ্রামের শীতলা পূঁজা উপলক্ষে চারশত বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এই গ্রামের জামাই মেলা। দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী এই জামাই মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো এলাকার জামাইয়েরা।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও দূরদূরান্ত থেকে জামাইরা এসেছেন শ্বশুর বাড়িতে। তারা স্ত্রীকে সঙ্গে করে মেলা যেমন ঘুরে দেখেন, তেমনই শ্বশুরবাড়ি ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য করেন কেনাকাটা।
আর এই জামাই মেলায় এসেছে হরেক রকম মিষ্টি, মাংস, মাছ সহ নানা ধরনের মনোহরী ও ভোগ্য পণ্যের সমাহার। জামাইদের মধ্যেও চলে মেলা থেকে কেনাকাটার প্রতিযোগিতা। যে জামাই সবচেয়ে বেশি ও ভালো কেনাকাটা করতে পারবেন, এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার সুনাম। তাই এই মেলাকে ঘিরে চলে জমজমাট কেনা- বেচা।
এবছরের মেলায় আসা হরেক রকমের মিষ্টির মধ্যে বালিশ মিষ্টি, আমৃত্তি, ছানার জিলাপি, রসগোলা ছিলো বিশেষ আকর্ষণ। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে টাটকা ইলিশ ও রুই মাছ সহ হাঁস, রাজহাস, মুরগী, খাসিসহ বিভিন্ন ধরনের মাংসের বিক্রি ছিলো বেশ জমজমাট। বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর পুরো মেলাঙ্গন।
মেলা কমিটির সভাপতি অমল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, শুধু জামাই নয়, এলাকাবাসী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় এই উৎসব। কেনাবেচার পাশাপাশি চলে আনন্দ-আড্ডা। গ্রামীণ ঐতিহ্য আর পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই জামাই মেলা।
জোয়ারিয়ার ঐতিহ্যবাহী এই জামাই মেলায় উপস্থিত হন গোপালগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। তিনি মেলা কমিটির লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মেলাঙ্গন ঘুরে দেখেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ধরে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
চারশত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা শুধু কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
এএন