মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
মার্চ ২৫, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
মাগুরা সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-৬। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের এ ধরনের ধারাবাহিক সাফল্য প্রশংসিত হলেও, একই সঙ্গে জেলার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে র্যাব-৬ সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরা সদর থানাধীন লক্ষ্মীকান্দর এলাকার নির্মাণাধীন ট্রাক টার্মিনালের সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ২০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা অহিদুল ইসলাম (৩৪) ও আরিফুল লস্কার (২৫)-কে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, “মাদক নির্মূলে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে এ ধরনের চালান আটক করা সম্ভব হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাগুরায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক প্রবাহ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মাগুরা মাদকদ্রব্য দপ্তরের দৃশ্যমান তৎপরতা খুব কম। অনেকেই মনে করছেন, বড় চালান বা সংগঠিত চক্র ভাঙার পরিবর্তে ছোটখাটো অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকায় মাগুরার প্রকৃত মাদক নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাচ্ছে।
বিশেষ করে মাগুরা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও গোয়েন্দা নজরদারির ঘাটতির কারণে জেলায় মাদক ব্যবসা থামছে না, বরং নীরবে বিস্তৃত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “র্যাব বা অন্যান্য বাহিনী যখন অভিযান চালায় তখন বড় চালান ধরা পড়ে। কিন্তু মাগুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে যদি নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি থাকত, তাহলে এ ধরনের চালান এত সহজে পরিবহন করা সম্ভব হতো না মাগুরায়।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মাগুরা মাদকদ্রব্য দপ্তরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, শক্ত গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার জবাবদিহিমূলক ভূমিকা। অন্যথায় একদিকে অভিযান চললেও, অন্যদিকে মাদক নেটওয়ার্ক সক্রিয়ই থেকে যাবে।
এএন