কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই লিটার পেট্রোল বা অকটেনের জন্য ভোক্তাদের দীর্ঘ এক কিলোমিটার লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বুধবার সকালে কটিয়াদী বাজারের মেসার্স দেবনাথ রাধানাথ রায়ের তেলের দোকানে এমন নজিরবিহীন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের চরম সংকট চলছে। বুধবার সকালে ৩ হাজার লিটার তেলের সরবরাহ এলেও চাহিদোর তুলনায় তা ছিল নগণ্য। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালক মো. রনি বলেন, “এক কিলোমিটার লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি মাত্র দুই লিটার তেলের জন্য। এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও কোথাও তেল মিলছে না।” তীব্র ভিড়ের কারণে তেল বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।
জ্বালানি সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা, যারা নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। অনেকের মাঝপথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গাড়ি ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে কিছু অসাধু চক্র ২৫০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি করছে। সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, পাম্পের তেল বাইরে পাচার হয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
কটিয়াদী বাজারের তেল ব্যবসায়ী দেবাশীষ রায় পার্থ জানান, তেলের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। ৩ হাজার লিটার তেল আসার খবর পেয়ে গ্রাহকরা যেভাবে ভিড় করেছেন, তাতে স্বাভাবিক বিক্রি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশি সহায়তা নিয়েও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৈনিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পাওয়ার কিছুক্ষণ পরই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেএইচআর