গোলাম কিবরিয়া সোহেল, নেত্রকোণা
এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
নেত্রকোণা জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ৩ উপজেলায় দীর্ঘ এক বছর যাবৎ সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় জমি ক্রেতা-বিক্রেতা সহ সেবা গ্রহীতাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলায় জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নিজস্ব জায়গা ও অফিস না থাকায় সাময়িক অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরাতন জজ কোর্টের পরিত্যক্ত ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা, স্টাফ, নকলনবিশদের স্যাঁতসেঁতে রুমে বসে কাজ করতে হচ্ছে।
এছাড়াও দলিল লেখক ও তল্লাশকারকদের বারান্দায় বসে গিজগিজে পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে। রেকর্ড রুমে জায়গা ও প্রয়োজনীয় র্যাকের অভাবে হাজার হাজার বালাম বই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষাকালে বৃষ্টির ধাক্কায় পানিতে ও স্যাঁতসেঁতে ভবনের দরজা-জানালা ও ভেন্টিলেটর দিয়ে জলীয় কণা রুমে প্রবেশ করে এবং অনেক বালাম বই মেঝেতে পড়ে থাকায় বিনষ্ট হচ্ছে।
কেন্দুয়া, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী উপজেলায় দীর্ঘ এক বছর যাবৎ সাব-রেজিস্ট্রার নেই। সম্প্রতি আরো দুই জন সাব-রেজিস্ট্রার দুই মাসের জন্য প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, নেত্রকোণা সদর, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ ও পূর্বধলা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কোনো পিয়ন নেই। আজ পর্যন্ত রেকর্ড রুমে কোনো পিয়ন নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
প্রতিদিন প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে শত শত লোক জমি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য দলিল রেজিস্ট্রেশন, দলিলের সার্টিফাইড কপি গ্রাহককে হস্তান্তর, দলিলের নকল নিতে আসে। সাব-রেজিস্ট্রার সংকটের কারণে একেকজন সাব-রেজিস্ট্রারকে সপ্তাহে একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন।
দলিল লেখক বাচ্ছু মিয়া বলেন, নিজস্ব জায়গা ও ভবন না থাকায় দলিল লেখকদের বারান্দায় প্রচণ্ড গরমে গিজগিজে পরিবেশে এবং বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ভিজে কাজ করতে হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অফিসের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল খালেক বলেন, আমি প্রতি চার মাস পর পর বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শন করি। যেসব সমস্যা পেয়েছি, তা দ্রুত নিরসনের জন্য মহাপরিদর্শক নিবন্ধনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি।
সম্প্রতি জেলা রেজিস্ট্রার ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জন্য জেলা শহরের বনুয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জায়গা অধিগ্রহণের পর দ্রুতই সেখানে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে জনদুর্ভোগ বহুলাংশে কমে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এএন