বরিশাল ব্যুরো
এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বরিশালে গত দুই দিন ধরে বজ্রসহ ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বুধবারও দিনভর বজায় ছিল। বৈরী এই আবহাওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ায় গাছপালা উপড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের কেটে রাখা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দমকা হাওয়ায় মাঠের পাকা ধান গাছ নুয়ে পড়ায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঘন ঘন বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেক কৃষক জমিতে গিয়ে ধান কাটার সাহস পাচ্ছেন না। ফলে চোখের সামনে সোনার ফসল নষ্ট হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, বানারীপাড়া, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান এখন বৃষ্টির পানির নিচে। কৃষি বিভাগ থেকে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ঘরে তুলতে না পেরে ঋণগ্রস্ত কৃষকরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অধিকাংশ উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় ২ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় নৌ-চলাচলেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
জেএইচআর