গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির, বুড়িচং (কুমিল্লা)
মে ৫, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
কুমিল্লার ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের নিশ্চিন্তপুর (নামার বাজার), বুড়িচং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি ফুটওভার ব্রিজ। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি গণদাবিতে রূপ নেয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের একমাত্র দাবি ছিল-‘আর নয় ঝুঁকি, চাই নিরাপদ পারাপার।’
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের দুই পাশে কুমিল্লা সেনানিবাস অবস্থিত। এর আশপাশে মাত্র ১০০ গজের মধ্যে ১০ থেকে ১২টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করছেন। দ্রুতগতির যানবাহনের চাপ ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
কুমিল্লা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সড়ক পারাপার করেন। দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি ফুটওভার ব্রিজ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।
আসলাম খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী আক্তার বিথী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে রাস্তা পার হয়। আমরা আর কোনো দুর্ঘটনা দেখতে চাই না। দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, অতীতে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, সাজ্জাদ সাজু, কামরুল হাসান, নুরুল হক ও কাজী মাসুমসহ পাঠশালা কলেজ, কুমিল্লা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আসলাম খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্রীন বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল অংশগ্রহণ করেন।
এম জি