রাকিবুল হাসান, রাজশাহী
মে ৭, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি সংস্কারের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ডালিতে মাটি বহন করে কর্মসূচিতে অংশ নেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-৩০ অর্থবছরের মেয়াদে সারা দেশে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পবা উপজেলার বৈরাগীর খালের জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।
এই কাজের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৬ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খালের পানি ফলিয়ার বিল হয়ে দুর্গাপুরের হোজা নদীতে গিয়ে মিশবে। এতে ওই এলাকার প্রায় ২০ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, খাল পুনঃখনন কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট থাকায় কৃষকরা সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতায় ভুগছেন। বৈরাগীর খাল খনন হলে এই অঞ্চলের কৃষিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব সুফল বয়ে আনে সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। তবে খাল খননের পর তা যেন আবার দখল বা দূষণের শিকার না হয়, সে জন্য স্থানীয়দের সচেতন থাকতে হবে।
কাজের মান নিশ্চিতে ইউএনও-কে আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে একটি তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক কদম আলী ও মুনতাজ আলী জানান, খালটি ভরাট হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিত। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বোরো, আমনসহ বিভিন্ন সবজি চাষে সুবিধা হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আয় বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন বাদশা, পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোরশেদ, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান রেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিন ও নহাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রহমানসহ পবা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জেএইচআর