গাজীপুর প্রতিনিধি
মে ১৪, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচজনকে হত্যার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে অভিযান চালাচ্ছিল। তদন্তের এক পর্যায়ে সিআইডি পদ্মা সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় উদ্ধার করে, যা পরে ফোরকানের বলে শনাক্ত করা হয়। এরপর নদীতে তার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায় এবং তা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। তিনি প্রায় এক বছর আগে ওই বাসার নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়।
ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।
ঘরের মেঝেতে তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অন্যদিকে স্ত্রী শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ বিছানায় পাওয়া যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের বোতল, রান্না করা পায়েস ও কোকাকোলার বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া যায়, যা থেকে জানা যায়, ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন এবং পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এম জি