ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থীদের নিয়ে সাদা দলের দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ 

মুদ্দাচ্ছির নাসিফ, নোবিপ্রবি

মুদ্দাচ্ছির নাসিফ, নোবিপ্রবি

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থীদের নিয়ে সাদা দলের দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও পুনর্বাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাদা দলের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক মানববন্ধন এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থান সামনে আসায় এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে’ মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সেখানে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এসময় সাদা দলের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন অভিযোগ তোলেন।

তবে এই অবস্থানের সঙ্গে সাদা দলের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্টে রেজিস্ট্রার দপ্তরের সংস্থাপন শাখা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও সাবেক ট্রেজারার এসিসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরকে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হয়। আওয়ামীপন্থী অধ্যাপককে দেওয়া অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম রিজেন্ট বোর্ডের নির্দেশনা, রিজেন্ট বোর্ডের শিক্ষক প্রতিনিধি ও সিনিয়র শিক্ষকদের যৌথ সভার সুপারিশক্রমে এবং নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামত ও বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশক্রমে আপনাকে একাডেমিক কার্যক্রমে শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হয়। 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিজেন্ট বোর্ড সভার আগেই ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সভার শিক্ষক প্রতিনিধি ও সিনিয়র শিক্ষকদের একটি যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ যারা শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে তাদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। সভায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ ও পরবর্তী ব্যাচসমূহের একাডেমিক কার্যক্রম এবং গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয় রিজেন্ট বোর্ডের যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য থাকা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রেক্ষিতে এই অনুমতি দেওয়া এবং ক্লাস টেস্ট ও ফাইনাল পরীক্ষা নিতে প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আসতে পারবে বলেও সুপারিশ করা হয়। 

ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ (মুরাদ), রিসার্চ সেলের পরিচালক ও বর্তমান সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ এবং এসিসিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল আলম। সভা শেষে উক্ত সিন্ধান্তে একমত হয়ে উপস্থিত সকল সদস্যই স্বাক্ষর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ফেরাতে তোড়জোড় শুরু হয় ৬৫তম রিজেন্ট বোর্ডের সভা থেকেই। তবে সেই সভায় বিষয়টি পাশ না হলে আলোচনা চলতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। ৬৬তম রিজেন্ট বোর্ড সভার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান এবং শিক্ষকদের নিয়ে মোট ৩টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিটিংগুলোতে আওয়ামীপন্থী মোট তিনজন শিক্ষককে ফেরাতে চাপ দেওয়া হয়। তারা হলেন ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করা ট্রেজারার অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর, তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বিপ্লব মল্লিক এবং প্রক্টর ও ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান রিমন। পরবর্তীতে সাদা দলের নেতৃবৃন্দসহ সিনিয়র শিক্ষকদের সমন্বয়ে হওয়া সভার সিদ্ধান্তক্রমে ড. বিপ্লব মল্লিক এবং আনিসুজ্জামান রিমনের বিষয়টি স্ব স্ব বিভাগের উপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত অর্পণ করা হয় রিজেন্টের বোর্ডের উপর। পরবর্তীতে রিজেন্ট বোর্ড সভায় বিষয়টি পাশ হয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি পান আওয়ামীপন্থী সাবেক ট্রেজারার। 

এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক সংবাদ সম্মেলনে সাদা দল দাবি করেন, শিবিরের নেতাকর্মীদের দিয়ে “মব” তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বেতন-ভাত ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ তোলে সাদা দলের নেতৃবৃন্দ। 

এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য থাকায় সাদা দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমোদনে সম্পৃক্ততা, অন্যদিকে তাদের পুনর্বাসনের বিরোধিতায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ— এই দ্বৈত অবস্থানকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রায় ২০জন শিক্ষককে নিয়ে বসেছিলো। আমরা বলেছি প্রক্টর যাচাই-বাছাই করুক, যেহেতু শৃঙ্খলার বিষয়টি জড়িত। এরপরে হয়তো তারা ছাত্রদের সাথে বসছে, আলাপ আলোচনা করছে। পরে রিপোর্ট কি দিয়েছে আমি জানি না। রিজেন্ট বোর্ডের কোন মেম্বারকে জিজ্ঞেস করলে ঐ বিষয়ে পরবর্তীতে কি আলোচনা হয়েছে ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁরা ভালো বলতে পারবে। সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ও এ সংক্রান্ত কোন পত্রে স্বাক্ষর দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমি ঠিক মনে করতে পারতেছি না।

এ বিষয়ে সাদা দলের সভাপতি ও রিজেন্ট বোর্ডের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা সম্ভবত অনলাইন ক্লাসের পারমিশন দেওয়া হয়ছে কিন্তু ফিজিক্যালি আসার ব্যাপারে আমি কোন কিছু জানি না আসলে। আমি যতটুকু জানি বিভাগ থেকে দাবি জানিয়েছিলো তখন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পারমিশন দেওয়া হয়ছে। বাকিটা আমি বলতে পারবো না আসলে। 

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার অনুমতির বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, সাদা দলের শিক্ষকদের সুপারিশ ও সিনিয়র শিক্ষকদের সুপারিশের ভিত্তিতে উনাকে অনলাইনে ক্লাস এবং পরীক্ষাসমূহ ফিজিক্যালি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উনারা যে দ্বৈত নীতি অবলম্বন করতেছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এএন

Link copied!