ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্ল্যামার ছাপিয়ে আত্মবিশ্বাসী কন্যা গড়ার পথে ঐশ্বরিয়ার দৃষ্টান্ত

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১১:০১ পিএম

গ্ল্যামার ছাপিয়ে আত্মবিশ্বাসী কন্যা গড়ার পথে ঐশ্বরিয়ার দৃষ্টান্ত

বলিউডে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে ঘিরে যত রঙিন আলো ও প্রশংসা তার চেয়েও বেশি গভীর একটি গল্প লুকিয়ে আছে তার ব্যক্তিগত জীবনে। সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড, আন্তর্জাতিক মানের অভিনেত্রী, গ্লোবাল আইকন সব পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন মা। আর সেই পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ হলো তার কন্যা আরাধ্যাকে বড় করে তোলার ধরণ।

যেখানে গ্ল্যামারের ঝলকানির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আত্মবিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নিরাপদ শৈশব। শিরোনাম নয়, নিজের পরিচয়েই বাঁচতে শিখাচ্ছেন আইশ্বরিয়া ঐশ্বরিয়ার মতো বিশ্বমঞ্চের তারকার সন্তান হওয়া সহজ নয়। যেখানেই যান, ক্যামেরা, মিডিয়া, আলোচনা—সবকিছুই যেন আরাধ্যার জীবনের অবধারিত অংশ। 

তবে ঐশ্বরিয়া শুরু থেকেই চেষ্টা করেছেন মেয়েকে এ বাস্তবতা থেকে দূরে রেখে তার ব্যক্তিগত পরিচয়টি গড়ে তুলতে। 

তিনি নাকি ঘরে কখনোই আরাধ্যার সামনে নিজের সেলিব্রিটি পরিচয় ফলাতে দেন না; বরং তাকে শেখান সাধারণ জীবনের মূল্য। ঐশ্বরিয়ার কথায়, সন্তানকে তার নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রত্যাশায় নয়, নিজের আগ্রহ, নিজের পছন্দ ও নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুক—এটাই তার লক্ষ্য। সামাজিক চাপের বাইরে ‘গ্রাউন্ডেড’ থাকা এ যুগের বাচ্চারা প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনপ্রিয়তার চাপের মাঝে বেড়ে উঠছে।

কিন্তু আরাধ্যার জীবনকে সেখান থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া। 

তিনি বিশ্বাস করেন, জনপ্রিয়তার বোঝা খুব অল্প বয়সে কাঁধে চাপলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। তাই আরাধ্যা যখনই বাইরে যায়, স্কুলে বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ঐশ্বরিয়া নিশ্চিত করেন, সে যেন আর দশজন শিশুর মতোই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। অনেকসময় তাকে দেখা যায় মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতে বা আনতে নিজে উপস্থিত থাকতে।

 গ্ল্যামার ও ব্যস্ততার ভিড়ে থেকেও এই দায়িত্ব পালন করা তার মা হিসেবে নিবেদনেরই প্রমাণ। আত্মবিশ্বাস গঠনের তিন মূলমন্ত্র ঐশ্বরিয়ার কাছেরজনদের মতে, তিনি আরাধ্যার আত্মবিশ্বাস গঠনের জন্য তিনটি বিষয়কে নিয়মিত গুরুত্ব দেন— ১. নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আরাধ্যাকে তিনি নিজের মত প্রকাশে উৎসাহিত করেন। কোন বিষয়ে তার কী অনুভূতি—তা খোলামেলাভাবে বলতে শেখানোই তার প্রাথমিক পাঠ। 

২. নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস ঐশ্বরিয়া ছোটবেলা থেকেই আরাধ্যাকে শেখাচ্ছেন ভুল করা লজ্জার নয়, শেখার অংশ। ভুল স্বীকার করতে শেখা মানসিক শক্তিকে বাড়ায়—এই বোধ তিনি মেয়ের মধ্যে গড়ে তুলছেন। 

৩. সবাইকে সমান সম্মান সেলিব্রিটি জীবনের সুবিধা গ্রহণের আগেই মানবিকতা ও সম্মানের মূল্য শেখানো—এটিকে সবচেয়ে জরুরি মনে করেন ঐশ্বরিয়া। 

তিনি চান, তার কন্যা যেন সহমর্মিতা ও বিনয়ের গুরুত্ব বোঝে। গ্ল্যামার থেকে দূরে সাধারণ শৈশব অভিনয়, ব্র্যান্ড শুট, আন্তর্জাতিক ইভেন্ট—সবকিছুই ঐশ্বরিয়ার জীবনের অংশ হলেও আরাধ্যার উপস্থিতি সেখানে সীমিত। পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া তাকে খুব কমই জনসমাগমে দেখা যায়। এমনকি বড় কোনো রেড কার্পেট ইভেন্টেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় না, যদি সেটি তার বয়স বা আরামের সঙ্গে মানানসই না হয়। 

অনেকেই মনে করেন, এটা একজন দায়িত্বশীল মায়ের সচেতন সিদ্ধান্ত। সন্তানকে বাবা–মায়ের জনপ্রিয়তার ছায়ায় না রেখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতেই এ ব্যবস্থা। মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঐশ্বরিয়া বহুবার বলেছেন, তিনি শুধু মা নন—আরাধ্যার সেরা বন্ধু। তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস। মেয়ের যেকোনো জিজ্ঞাসা বা অনুভূতি তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

ব্যস্ততার চাপ যতই থাকুক, প্রতিদিন সময় বের করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন, দিনের অভিজ্ঞতা জানেন এবং তার মতামত জানতে চান। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই আরাধ্যাকে আত্মবিশ্বাসী এবং নিরাপদ মনে করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে বলে মনে করেন অনেকে। ভবিষ্যৎ নিয়ে ঐশ্বরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আরাধ্যা কোন পেশায় যাবে, কী হবে এসব নিয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেই আইশ্বরিয়ার। তিনি বলেছেন, তার ভবিষ্যৎ আরাধ্যাই ঠিক করবে। আমার কাজ তাকে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য তৈরি করে দেওয়া। এ কথা থেকেই বোঝা যায়, কন্যার স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্বকে কতটা সম্মান করেন তিনি। 

গ্ল্যামার ও আলো–ঝলমলে জীবনের আড়ালে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মাতৃত্ব যেন অনেক সাধারণ মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণা। তার কাছে মাতৃত্ব মানে শুধু সন্তানের দেখাশোনা নয়—বরং তাকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে সে নিজের ওপর আস্থা রেখে, সঠিক মূল্যবোধ নিয়ে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে পারে। 

আরাধ্যাকে তিনি যেমনভাবে বড় করছেন, তাতে একটাই স্পষ্ট—মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুটের ঝলকানি যতই থাকুক, তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একজন আত্মবিশ্বাসী, বাস্তবমুখী এবং মানবিক কন্যা গড়ে তোলা।

ইএইচ

Link copied!