বিনোদন ডেস্ক
মে ১৮, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদের মেয়ে, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কারিনার নানা বাড়িতে চতুর্থ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে ভারত থেকে মরদেহ দেশে আসার পর ঢাকায় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার সকাল ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কারিনার মরদেহ ঢাকা থেকে গজারিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এই সময় প্রিয় তারকাকে শেষবিদায় জানাতে এসে শোকের ছায়া নেমে আসে কারিনার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাঁর লিভার কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে হঠাৎ রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
কারিনার ভাই সাদ্দাফ হামিদ জানান, এই বাড়িটি তাঁর মা ও কারিনা আপুর অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা। বোনকে নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের, যা মা একটু সুস্থ ও স্থির হলে বোনের কবরের পাশে বাস্তবায়ন করা হবে।
কারিনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্বজন জুবায়ের জাহাঙ্গীর জানান, কারিনা ছোটবেলা থেকেই অনেক চঞ্চল, মিশুক ও বিনয়ী প্রকৃতির ছিলেন। এলাকায় এলে সবার সাথে খুব সহজে মিলেমিশে চলতেন। তাঁর এই অকালমৃত্যু সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়।
দাফন কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে মা লোপা কায়সার গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন, যেন তাঁর মেয়ের শেষ মুহূর্তের বা দাফনের কোনো ছবি তোলা না হয়। তিনি মোবাইল ফোন বাইরে রেখে ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া মেয়ের কবরের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, কারিনা দীর্ঘদিন ধরে লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ মে (শুক্রবার) তিনি মারা যান।
প্রয়াত কারিনা কায়সার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া সরকার বাড়ির মৃত ডা. আবুল খায়ের বাচ্চু ও ডা. জোহরা খানম পারুলের নাতনি। ডিজিটাল মাধ্যমের পরিচিত মুখ ও প্রতিভাবান এই অভিনেত্রীর অকালমৃত্যুতে সারা দেশের সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনসহ গজারিয়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেএইচআর