আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে'র এক প্রতিবেদনে তাকে ‘ভারতবিরোধী’ তকমা দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ভারতের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন।
ইন্ডিয়া টুডে জানায়, তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রতিবেশী ভারতে বেগম জিয়া সফর করেছিলেন মাত্র দুবার। প্রথমবার ১৯৯১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে চীন ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সুসম্পর্ক গড়ায় বেশি মনোযোগী ছিলেন।
বিশেষ করে ২০০২ সালে ভারতকে পাশ কাটিয়ে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেন তিনি। এর ফলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে চীন।
গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার ছিলেন খালেদা জিয়া। ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশ পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই যুক্তিতে তিনি জাতিসংঘ এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি উত্থাপন করেন। ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তার এই কূটনৈতিক কৌশল তখন বেশ আলোচিত হয়েছিল।
১৯৯২ সালে প্রথম ভারত সফরে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও যখন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর ইস্যুটি তোলেন, তখন খালেদা জিয়া দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সোজাসুজি জানিয়েছিলেন, ভারতীয়রা বাংলা বললেই তারা বাংলাদেশি হয়ে যায় না।
এছাড়া ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ট্রানজিট’ সুবিধার ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। তাঁর মতে, বিনা টোলে ভারতকে এই সুবিধা দেওয়া ছিল বাংলাদেশের জন্য ‘দাসত্বের’ সমান এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে শীতল পর্যায়ে পৌঁছায়। মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহের ট্রানজিট সুবিধা না দেওয়া এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর অনমনীয় মনোভাবই দেশটিকে এই বিশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের রাজনীতির এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
ইএইচ