ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নিউইয়র্কের নতুন মেয়র মামদানি ও স্পিলবার্গের গোপন বৈঠক: পর্দার আড়ালে কী আলোচনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

নিউইয়র্কের নতুন মেয়র মামদানি ও স্পিলবার্গের গোপন বৈঠক: পর্দার আড়ালে কী আলোচনা?

নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি যখন শহরবাসীর কাছে সরকারের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করছেন, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বিলিয়নেয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের সাথে একান্তে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাকে। 

গত সোমবার সেন্ট্রাল পার্ক ওয়েস্টে স্পিলবার্গের নিজস্ব অ্যাপার্টমেণ্টে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও মেয়রের প্রকাশ্য কার্যসূচিতে এই সাক্ষাতের কোনো উল্লেখ ছিল না, তবে পরবর্তীতে মেয়রের কার্যালয় এবং স্পিলবার্গের মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার ছিল মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির প্রথম পূর্ণ কর্মসপ্তাহের প্রথম দিন। এদিন সকালে তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে তার শপথ গ্রহণের মুহূর্তগুলো তুলে ধরে ক্যাপশন দেওয়া হয়, কাজ চলছে, কাজ অব্যাহত থাকবে, কাজ কেবল শুরু হয়েছে। 

জনসাধারণের জন্য এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা যখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক সেই সময়েই মেয়র মামদানি তার দাপ্তরিক ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে হাজির হন স্টিভেন স্পিলবার্গের বিলাসবহুল বাসভবনে। নৈশভোজের আগের এই আলাপচারিতা স্থায়ী হয়েছিল প্রায় এক ঘণ্টা।

স্টিভেন স্পিলবার্গের মুখপাত্র টেরি প্রেস জানিয়েছেন, মেয়র এবং পরিচালক দুজনেই এই বৈঠকটি ব্যক্তিগত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন। 

মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক ও এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য করেননি, তিনি শুধু জানিয়েছেন যে সাক্ষাতের পর মেয়র পুনরায় কাজে ফিরেছিলেন। তবে এই বৈঠকের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে যে, এটি ছিল স্রেফ একটি সৌজন্যমূলক পরিচিতি সভা। 

উল্লেখ্য, স্টিভেন স্পিলবার্গ সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটির আনুষ্ঠানিক বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। সেই হিসেবে স্পিলবার্গ এখন মেয়র মামদানির একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিখ্যাত নাগরিক।

মেয়র জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে একজন প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক ধারার নেতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, স্টিভেন স্পিলবার্গ ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম প্রধান দাতা এবং হলিউডের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। একজন জনসেবা ভিত্তিক মেয়রের সাথে একজন ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়ারের এই একান্তে আলাপচারিতা নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে মেয়র মামদানি হয়তো নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র শিল্পের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে একটি যোগসূত্র স্থাপন করতে চাচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক সিটি বিশ্বের চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম বড় কেন্দ্র, আর স্পিলবার্গের মতো ব্যক্তির পরামর্শ বা সমর্থন শহরের অর্থনীতি ও বিনোদন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের অধিকার এবং স্বচ্ছতার কথা বারবার বলেছিলেন। তাই মেয়রের সরকারি সূচিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের অনুপস্থিতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠছে। তবে সিটি হলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক সৌজন্য বিনিময় হিসেবেই দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জোহরান মামদানি এমন এক সময়ে মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছেন যখন নিউ ইয়র্ক সিটি আবাসন সংকট, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। স্পিলবার্গের মতো প্রভাবশালী নাগরিকদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখা তার শাসনের কৌশলের অংশ কি না, তা সময়ই বলে দেবে। 

নিউ ইয়র্ক সিটির গদিতে বসার পর জোহরান মামদানি যেমন মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তেমনি পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সাথেও তার যোগাযোগ শুরু করেছেন। স্টিভেন স্পিলবার্গের সাথে তার এই সাক্ষাৎ নিউ ইয়র্কের রাজনীতি ও সংস্কৃতির নতুন রসায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেএইচআর

Link copied!