আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-এর অন্ধকার জগতের রহস্য উন্মোচনে এবার মার্কিন কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দম্পতি—সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন তাঁরা।
‘কংগ্রেস অবমাননার’ দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত ভোটাভুটির মাত্র কয়েক দিন আগে এই নাটকীয় সিদ্ধান্তটি সামনে এল। এর মাধ্যমে ৪৩ বছরের পুরনো এক ইতিহাস পুনরায় ফিরে আসতে যাচ্ছে—সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর বিল ক্লিনটনই প্রথম ব্যক্তি, যিনি কংগ্রেসীয় কমিটির সামনে সশরীরে হাজির হবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ক্লিনটন দম্পতি এই তদন্ত কমিটিকে এড়িয়ে চলছিলেন। তাঁদের আইনি দল যুক্তি দিয়েছিল যে, এই সমন স্রেফ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইশারায় ডেমোক্র্যাটদের বিব্রত করার একটি চাল। তবে হাউস ওভারসাইট কমিটি যখন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছায়, তখন তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন।
বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই সম্মতির কথা নিশ্চিত করেন। তবে সম্মতির পাশাপাশি তিনি কমিটির কড়া সমালোচনা করে বলেন, তাঁরা (ক্লিনটন দম্পতি) সব সময়ই সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কমিটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যস্ত ছিল।
২০১৯ সালে কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হওয়া জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল ক্লিনটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বলে জানা গেছে। যদিও বিল ক্লিনটন দাবি করেছেন তিনি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং দুই দশক আগেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, কিন্তু প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ভিন্ন কথা বলছে।
উড়োজাহাজের লগবই: ২০০২ ও ২০০৩ সালে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে বিল ক্লিনটন অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন।
বিতর্কিত ছবি: তদন্তে প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, বিল ক্লিনটন এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বাসভবনে সময় কাটিয়েছেন। এমনকি সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা এবং হট টাবে শুয়ে থাকার কিছু ছবিও কমিটির হস্তগত হয়েছে।
শপথনামা: ক্লিনটন দম্পতি দাবি করেছেন, তাঁরা ইতোমধ্যেই হলফনামার মাধ্যমে তাঁদের কাছে থাকা ‘সীমিত তথ্য’ কমিটিকে জানিয়েছেন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমস কোমার প্রথম থেকেই এই দম্পতিকে তলব করার বিষয়ে অনড় ছিলেন। তিনি জানান, ক্লিনটনদের তলব করার সিদ্ধান্তটি কেবল রিপাবলিকানদের নয়, বরং উভয় দলের সম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। কোমার বলেন, আমেরিকার শাসনতন্ত্রে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আমরা তাঁদের বারবার সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু তাঁরা আইনি মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট করছিলেন।
ক্লিনটন দম্পতির পক্ষ থেকে এক চিঠিতে কমিটির তদন্তের ধরন নিয়ে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মতে, জেমস কোমার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের চেয়ে ‘পার্টিজান পলিটিক্স’ বা দলীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী। উরেনিয়া লিখেছেন, তাঁরা যা জানেন তা শপথ করে আগেই জানিয়েছেন। এরপরও তাঁরা সেখানে যাবেন কেবল একটি সুস্থ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে, যা সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এপস্টেইন-কাণ্ডের নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়ালেও বিল ক্লিনটনের সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এই তদন্ত কেবল এপস্টেইনের অপরাধ নয়, বরং মার্কিন উচ্চবিত্ত ও রাজনৈতিক ক্ষমতার এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে আলো ফেলবে।
এএন