ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘দাম্ভিক’ ইসরায়েল-আমেরিকাকে মাটিতে টেনে নামাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২১, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

‘দাম্ভিক’ ইসরায়েল-আমেরিকাকে মাটিতে টেনে নামাচ্ছে ইরান
 সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর দাপট এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। গত তিন সপ্তাহের যুদ্ধে ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল অন্তত দুই ডজন সামরিক বিমান হারিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনীর গর্ব হিসেবে পরিচিত ১৬টি অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাহারারত ১২টি এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ায় পেন্টাগনের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার হওয়ায় কেবল ড্রোন হারিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে ৫০ কোটি ডলারের বেশি।

আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপর্যয় কেবল ড্রোন হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গত ২ মার্চ কুয়েতে রহস্যজনক এক ঘটনায় তিনটি এফ-ফিফটিন স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছে। এর দশ দিন পর ইরাকের আকাশে একটি কেসি-ওয়ান থার্টি ফাইভ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতির মাঝেই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে গত ১৯ মার্চ। ওইদিন ইরানি আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি অত্যাধুনিক স্টিলথ এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই ২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রজেক্টভুক্ত স্টিলথ ফাইটারকে আঘাত করতে সক্ষম হলো। পেন্টাগন বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করলেও এর পেছনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এফ-থার্টি ফাইভকে লক্ষ্যবস্তু করে থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সমরাস্ত্রের যে অজেয় ইমেজ ছিল তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধবিমানের যে কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, তা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে।

ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও ইরান বড় ধরনের সাফল্য দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের অন্তত চারটি রাডার এরই মধ্যে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা এসব রাডার ধ্বংস হওয়ায় ওই অঞ্চলের আকাশ সুরক্ষা এখন অনেকটাই নড়বড়ে। প্রতিটি রাডারের মূল্য ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বের মাত্র ১০টি থাড সিস্টেমের মধ্যে ৪টিই এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য এক বিশাল সামরিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর বাইরে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা অত্যাধুনিক আর্লি ওয়ার্নিং রাডারটিও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত কোটি ডলার মূল্যের এই বিশাল রাডার সিস্টেমটি ৫ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম ছিল। কাতার এই রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে, ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকরী প্রযুক্তির সামনে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা দেওয়াল ভেঙে পড়ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন দাবি করছে, এই গুরুত্বপূর্ণ রাডারগুলো ধ্বংস হওয়ার ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেছে।

সমুদ্রপথেও যুক্তরাষ্ট্রের সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বাধুনিক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে অকেজো হয়ে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই জাহাজটি কোনো শত্রু দেশের হামলায় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়া নাবিকদের সম্ভাব্য নাশকতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে। গত ১২ মার্চ জাহাজের লন্ড্রি সেকশনে শুরু হওয়া সেই আগুন নেভাতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। মার্কিন নৌবাহিনী এখন তদন্ত করে দেখছে, জাহাজটিকে বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্লান্ত নাবিকরাই ইচ্ছে করে এই আগুন লাগিয়েছিল কি না।

টানা দশ মাস সমুদ্রে থাকায় নাবিকদের মনোবল ভেঙে পড়েছে এবং জাহাজটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলা অভিযানে অংশ নেওয়ার পর থেকে এই রণতরীটি আর বিশ্রামের সুযোগ পায়নি। একের পর এক অভিযানের মেয়াদ বাড়ানোয় একদিকে যেমন যন্ত্রপাতির ওপর চাপ বেড়েছে, তেমনি নাবিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, কেবল বাহ্যিক হামলা নয় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটিও মার্কিন সামরিক শক্তিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কেবল গোলাবারুদ খরচেই পেন্টাগনের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। ইতোমধ্যে ৩০০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার প্রতিটি খরচ সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং ফুরিয়ে যাওয়া অস্ত্র ভাণ্ডার পূর্ণ করতে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি বরাদ্দ চেয়েছে। এই বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যর্থতা বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এএন

Link copied!