ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে প্রসিকিউটর সাইমুম, কঠোর ব্যবস্থার পথে চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

কোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে প্রসিকিউটর সাইমুম, কঠোর ব্যবস্থার পথে চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, সেই বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে। সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি টাকা দাবির অভিযোগ ওঠার পর আজ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত এই প্রভাবশালী নেতাকে জামিন করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে এক কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ড। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাইমুম রেজা হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে টাকা আদায়ের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই অডিও ক্লিপগুলো যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। 

একজন প্রসিকিউটর, যার কাজ অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, তিনি নিজেই যখন আসামিপক্ষের সাথে অর্থ লেনদেনের চুক্তি করেন, তখন পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

আজকের ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে খবরটি দেখার পর আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছি। এটি কেবল ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়, বরং আমাদের পুরো প্রসিকিউশন টিমের ভাবমূর্তির ওপর একটি চপেটাঘাত।’

তিনি জানান, খবরটি দেখার সাথে সাথে তিনি সব প্রসিকিউটরকে জরুরি তলব করেন এবং সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত হতে বলেন। সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই ঘটনার পেছনের কারণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও সাইমুম রেজা দুই-তিন দিন আগেই পদত্যাগ করেছেন এবং সরকার তা গ্রহণ করেছে, তবুও তদন্ত প্রক্রিয়া থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না এলেও আমি আমার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো মামলা পরিচালিত হয়েছে, তার সবকটিতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি স্থায়ী কমিটি করা হবে।’

সাইমুম রেজা তালুকদার পেশায় ছিলেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক। ইন্টারনেটে নাগরিক অধিকার এবং সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর সুপরিচিতি থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল নগণ্য। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাঁকে যখন প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন অনেক আইন বিশেষজ্ঞই তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এখন এই দুর্নীতির অভিযোগ সেই পুরনো বিতর্ককেই উসকে দিয়েছে অর্থাৎ যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্য বা পরিচিতি কি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছিল?

অনুসন্ধানে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সাইমুম রেজার এই অপকর্মের কথা তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানতেন। তিনি সাইমুমকে ওই নির্দিষ্ট মামলা থেকে সরিয়ে দিলেও অন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেননি বা সরকারের কাছে কোনো শাস্তিমূলক সুপারিশ করেননি। এই দীর্ঘসূত্রতা এবং লুকোছাপার নীতি অপরাধীকে সাহস জুগিয়েছিল কি না, তা নিয়েও এখন তদন্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য এখন কেবল আইনি বিষয় নয়, এটি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতারও একটি প্রতীক। ট্রাইব্যুনালের ভেতর থেকে যদি এই ধরনের ‘দালালি’ এবং ‘টাকার বিনিময়ে মুক্তি’র সংস্কৃতি শুরু হয়, তবে তা বৈশ্বিক অঙ্গনে এই বিচারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেবে।

আমিনুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যদি এই অভ্যন্তরীণ তদন্তে কোনো প্রসিকিউটর বা স্টাফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হবে।‘

আপাতত সাইমুম রেজা তালুকদারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন- একটি পদের নিয়োগ থেকে শুরু করে দুর্নীতি পর্যন্ত এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়ভার কে নেবে? আজকের রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং পরবর্তী তদন্ত কমিটির রিপোর্টই বলে দেবে ট্রাইব্যুনাল কি তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে, নাকি এই কালিমাই হবে এর ভবিষ্যৎ।
প্রতিবেদনটি শেষ করার আগ পর্যন্ত জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রসিকিউটরদের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এএন

Link copied!