ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আবু সাঈদকে হত্যার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

আবু সাঈদকে হত্যার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, নিরপরাধ ও নিরস্ত্র একজন শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং ভিডিওচিত্রসহ অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:

১. আমির হোসেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।
২. সুজন চন্দ্র রায়: পুলিশের সাবেক কনস্টেবল।

উল্লেখ্য যে, সাজাপ্রাপ্ত এই দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং আজ রায় ঘোষণার সময় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ১৬ জুলাই ২০২৪-এ আবু সাঈদের সাহসী অবস্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আবু সাঈদ কোনো মারণাস্ত্র বহন করছিলেন না; তাঁর হাতে ছিল কেবল একটি লাঠি। দুই হাত প্রশস্ত করে দাঁড়িয়ে থাকার সময় পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছররা গুলি ছুড়তে থাকে। একজন নিরস্ত্র নাগরিককে এভাবে হত্যার নির্দেশ দেওয়া বা সরাসরি গুলি করা পেশাদারত্বের কোনো সংজ্ঞায় পড়ে না। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।

বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া এই রায়ের মুহূর্তটি দেশের কোটি মানুষ গভীর আবেগ নিয়ে প্রত্যক্ষ করেছে। আদালত মন্তব্য করেন, আবু সাঈদ হত্যার এই ভিডিও সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং এটিই ছিল জুলাই বিপ্লবের চালিকাশক্তি।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৩০ জন। এর মধ্যে আজকের রায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও বাকি আসামিদের ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন:

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন ছাড়া আরও চারজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন:

শরিফুল ইসলাম: রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর (যাঁর নির্দেশে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল)।
রাফিউল হাসান রাসেল: সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার।
মো. আনোয়ার পারভেজ: রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী।
ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা।

পলাতক আসামিরা হলেন:

উপাচার্য থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই মামলার অধিকাংশ আসামিই পলাতক। মোট ২৪ জন পলাতক আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

মো. হাসিবুর রশীদ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
মো. মনিরুজ্জামান: রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার।
মো. আবু মারুফ হোসেন: সাবেক উপকমিশনার।
পোমেল বড়ুয়া ও মাহাফুজুর রহমান: বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান এবং হামলাকারীদের সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আদালত তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারে ইন্টারপোল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছরের (২০২৫) ২৪ জুন ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। ছবি: সংগৃহীত

২৭ আগস্ট থেকে বিচার শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। এরপর চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ বহু মানুষের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

গত ২৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না, কিন্তু এই রায়ের মাধ্যমে তাঁর আত্মা শান্তি পাবে। আমি চেয়েছিলাম খুনিদের বিচার যেন বাংলার মাটিতে হয়, আজ তা হলো।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেছেন। 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িতদের রায় হয়েছে। কিন্তু এই রায় কার্যকর হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।

এদিকে, শহীদ আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হান বলেন, আমার ভাইকে হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত সকলের ফাঁসি কার্যকর চাই। তাহলে ভাই হত্যার বিচার হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, আবু সাঈদ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি ছিলেন অধিকার আদায়ের এক লড়াকু সৈনিক। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করার পথ দেখিয়েছিল।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার এই রায় কেবল একটি আইনি ফয়সালা নয়, এটি বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, 'চেইন অব কমান্ড' বজায় রাখার দোহাই দিয়ে কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পার পাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নাগরিকদের অধিকারের প্রতি আরও সচেতন করবে এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেবে। আবু সাঈদ এখন আর কেবল একটি নাম নন, তিনি একটি আদর্শ যিনি বুক চিতিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিখিয়েছেন।

এম জি

Link copied!