ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জান্নাত বেগম। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় এখন তিনি একাই লড়ছেন চারটি শিশুসন্তান নিয়ে। পাঁচ বছর আগে ঢাকার হাবিল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এক বছরের মাথায় জন্ম হয় প্রথম সন্তানের, এরপরের বছর একসঙ্গে জন্ম নেয় আরো তিনটি সন্তান। এখন জান্নাত চার সন্তানের মা।
তবে স্বামী হাবিল থাকেন না পরিবারের সঙ্গে। মাসের পর মাস কোনো খোঁজ থাকে না, হঠাৎ এসে আবার নিখোঁজ হয়ে যান। এ অবস্থায় চার সন্তান নিয়ে দুঃসহ জীবন পার করছেন জান্নাত। সন্তানের খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন। ঘরভাড়া দিতে পারছেন না। কাজেও যেতে পারেন না, কারণ ছোট ছোট সন্তানদের দেখার কেউ নেই।
অসহায় পরিস্থিতিতে স্থানীয় এক রডমিস্ত্রির সহায়তায় একটি লোহার খাঁচার মতো ঠেলাগাড়ি বানিয়ে নিয়েছেন জান্নাত। সেই ঠেলাগাড়িতে চার সন্তানকে নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান তিনি—খাবার, ছায়া আর নিরাপত্তার আশায়।
জান্নাত বলেন, “মেডিকেলে গেছিলাম একটা কিডনি বিক্রি করতে। ডাক্তার বলল, বিক্রি করলে দুর্বল হয়ে যাব, তখন বাচ্চাদের কে দেখবে? তাই আর পারলাম না। আত্মহত্যাও করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভাবলাম, আমি না থাকলে বাচ্চাগুলোর কী হবে?”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে সন্তানদের কিনে নিতে চায়। কত কিছু বলে, টাকা দেওয়ারও প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি রাজি হইনি। যত কষ্টই হোক, সন্তান কাউকে দেব না।”
জান্নাতের এই জীবনসংগ্রামের গল্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তাকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তার মাতৃত্ব, সাহসিকতা ও দৃঢ়তা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন