বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল), রাজশাহীর ১৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীতে মামলাটি (নং-০১/২০২৫) দায়ের করেন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রেলওয়ের কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিওএস) দপ্তরে আধুনিকায়নের নামে পণ্য ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অতিমূল্যায়ন করা হয়। তালা, বালতি, বাঁশি, ঝান্ডা, ভিআইপি পর্দা, লাগেজ ফিতা, ওয়াগন কার্ডসহ ১৭ ধরনের পণ্য ক্রয়ে প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্তে দেখা যায়, প্রতি তালার প্রকৃত মূল্য ১৭৩ টাকা হলেও ঠিকাদারকে প্রদান করা হয় ৫,৫৯০ টাকা। শুধু তালা ক্রয়েই আত্মসাৎ হয় ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা। এভাবে অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়েও অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাক্কলন কমিটি বাজারদর যাচাই না করে ১৫ থেকে ৩৩ গুণ পর্যন্ত অতিমূল্যায়িত দর নির্ধারণ করে। ১৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়, যা অনিয়মের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মামলায় মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- খোন্দকার শহিদুল ইসলাম, মো. খায়রুল আলম, মো. বেলাল হোসেন সরকার, মো. মজিবুর রহমান, মো. জাহিদ কাওছার, ফুয়াদ হোসেন আনন্দ, শ্যামলী রাণী রায়, মো. আলামিন তালুকদার, মো. আলমগীর হোসেন, এ এম এম শাহনেওয়াজ, মো. শরিফুল ইসলাম, মুস. হাসিনা খাতুন, মো. মসিহ উল হাসান, শেখ আব্দুল জব্বার, মো. গোলাম রব্বানী, গোলাম রহমান, সরোজ কান্তি দেব ও মিহির কান্তি গুহ।
দুদক জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে দুদক।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন