বান্দরবানে উৎসবমুখর পরিবেশে সাংগ্রাইং র‍্যালি

বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
বান্দরবানে উৎসবমুখর পরিবেশে সাংগ্রাইং র‍্যালি

বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে বান্দরবানে শুরু হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইং। এই র‍্যালিতে জেলায় বসবাসকারী সকল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিয়ে মেতে ওঠেন আনন্দ-উৎসবে।

সোমবার সকালে ঐতিহাসিক রাজার মাঠ থেকে বান্দরবান সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে র‍্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

এ উপলক্ষে সকাল থেকেই বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি জাতিগোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ বর্ণিল সাজে রাজার মাঠে জড়ো হন। ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানবাধিকার কর্মী ও নারী নেত্রী ডনাই প্রু নেলী বলেন, সব বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। তিনি জানান, বান্দরবানে ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিসহ ১২টি সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে এ উৎসব উদযাপন করছেন।

সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চথুই প্রু মারমা বলেন, র‍্যালির পর বয়স্ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ১৪ এপ্রিল সাঙ্গু নদীতে বুদ্ধ বিম্ব স্নান, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ঐতিহাসিক রাজার মাঠে মৈতা রিলং পোয়েঃ (মৈত্রী পানি বর্ষণ), প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসবসহ নানা আয়োজন রয়েছে।

বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নেতৃত্বে এ সাংগ্রাইং র‍্যালিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অপরদিকে, গত ১২ এপ্রিল সাঙ্গু নদীতে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিজু-বিষু শুরু হয়েছে। সোমবার রোয়াংছড়ি উপজেলার বেক্ষ্যং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। পাশাপাশি আগামীকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরি এবং মৈত্রী পানি বর্ষণসহ বিভিন্ন আয়োজন চলবে। আগামী মঙ্গলবার রাজার মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এএন