ফরিদপুরে বিআরটিএ কার্যালয়ে ঢুকে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি এবং সরকারি কর্মকর্তার টেবিলের কাঁচ ভাঙচুরের অভিযোগে জনি বিশ্বাস (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
আটক জনি ফরিদপুর শহরতলীর বিলনালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং সম্প্রতি 'সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদ' নামে একটি পত্রিকায় কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে জনি বিশ্বাস তাঁর কক্ষে ঢুকে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করে তাঁর সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে জনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং টেবিলের ওপর সজোরে থাপ্পড় মারেন। এতে টেবিলের ওপর থাকা কাঁচ ভেঙে যায়। এ সময় অফিসের অন্যান্য কর্মীরা এগিয়ে এসে তাঁকে আটক করেন এবং পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
আটকের সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে জনি বিশ্বাস ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মোটরযান পরিদর্শকের সাক্ষাৎকার নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জনি বিশ্বাস নিজেকে কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবার কখনও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত দুই সপ্তাহ আগেও শহরের টেপাখোলা এলাকায় একটি ইটভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ হয়েছিলেন।
বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানিয়েছেন, অফিসে ঢুকে সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, বর্তমানে জনি বিশ্বাসকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন