গাংনীতে ওঝাঁর ‘কেরামতি’র বলি কৃষক, ৩ ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকের পর মৃত্যু

মেহেরপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
গাংনীতে ওঝাঁর ‘কেরামতি’র বলি কৃষক, ৩ ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকের পর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাপের কামড়ে মাহাতাব হোসেন (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সকালে উপজেলার হিজলবাড়িয়া গ্রামের মাঠে কাজ করার সময় বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন মাহাতাব হোসেন। তিনি ওই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে।

নিহতের ভাই মহিবুল ইসলাম জানান, সকালে দুই ভাই মিলে ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় জমিতে সেচের পানি দেওয়ার সময় একটি ইঁদুরের গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা বিষধর সাপ মাহাতাবের পায়ে ছোবল দেয়।

ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে পার্শ্ববর্তী চৌগাছা গ্রামের ফোরকান আলী নামে এক ওঝার কাছে নেওয়া হয়। সেখানে বিষ নামানোর নামে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক, বাটি চালানো এবং বিভিন্ন ধরনের অপচিকিৎসা করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ওঝা প্রথমে রোগীকে বাঁচানোর আশ্বাস দেন। পরে পা কেটে রক্ত বের করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে কাঠের মাচার নিচে আগুন জ্বালিয়ে শরীরে তাপও দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে মাহাতাবের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

তিন ঘণ্টা পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. নাহিদ বলেন, সাপে কামড়ানোর পর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রতিষেধক প্রয়োগের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব হতো। কিন্তু ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করায় এবং অপচিকিৎসার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি সাপে কামড়ালে কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এম জি